কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর পরাজয়ের দায় উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের উপর চাপানোর প্রতিবাদে কুমারখালীতে পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় কুমারখালী উপজেলা বিএনপির হলবাজারস্থ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি ও উপজেলা যুবদল।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডে একটি ভবনে খোকসা উপজেলা বিএনপি নেতা সৈয়দ আমজাদ আলী, আনিসুর রহমান ও অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের দায় কুমারখালী উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের উপর চাপায়। এরই প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লুৎফর রহমান ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন। এসময় কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইনসলাম আনছার প্রামানিকসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পর পরই যুবদলের উদ্যোগে আরো একটি সম্মেলন একই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সংসদ নির্বাচনে কুমারখালী উপজেলা ও পৌর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তরিকুল ইসলাম লিপন, এডভোকেট শা-িল মাহমুদ ও আব্দুল রাজ্জাক বাচ্চু। তাছাড়া বর্তমান উপজেলা ও পৌর কমিটির কোন নেতৃবৃন্দকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নাম দেয়া হয় নাই। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমির বিশ্বস্ত এই তিনজনই ধানের শীষের প্রার্থীকে ভুল তথ্য দিয়ে বুঝিয়েছেন, তারা বলেছেন মেহেদী ভাই আপনি কোন প্রকার চিন্তা করবেন না, আমরা কুমারখালী উপজেলা হতেই ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আপনাকে বিজয় করে আনবো। তাই এই নির্বাচনে কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কোন কমিটির প্রয়োজন নাই। তারা নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট পর্যন্ত আমাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা না করেই দিয়েছিল। নির্বাচনে পরাজয়ের দায়ভার এই তিনজনকেই নিতে হবে। এছাড়াও ধানের শীষের প্রার্থীর অতিরিক্ত অহংকারী আচরণ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে তুচ্ছ মনে করে আওয়ামীলীগ প্রীতি, ভোট প্রচারণায় নির্বাচনের শৃঙ্খলার অভাব এবং অযোগ্য ব্যক্তির দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা এবং দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচনে অবমূল্যায়ন করায় পরাজয়ের আরো একটি কারণ বলে মনে করি।

বিগত ১৭টি বৎসর আমরা ফ্যাসিবাদ আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচীর আলোকে খোকসা কুমারখালীর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন করেছি। যার ফলশ্রুতিতে আপনারা দেখেছেন বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক, সাধারণ সম্পাদ মোঃ লুৎফর রহমানসহ কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং প্রত্যেকট নেতৃবৃন্দসহ আমরা একাধিক গায়েবী মামলার আসামী হয়ে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হয়েছি এবং কারাবরণ করেছি।

পক্ষান্তরে আন্দোলন সংগ্রামে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিসহ তরিকুল ইসলাম, সৈয়দ আমজাদ আলী, আনিচুর রহমান, শাতিল মাহমুদ ও বাচ্চুকে আমরা কোনদিন রাজপথে দেখি নাই। মেহেদী আহমেদ রুমি এমপি থাকাকালীন সময়ে তারা সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়েছিল এটাও নির্বাচনে পরাজয়ের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ বলে আমরা মনে করি।