স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুরের সাতাশ মৌজায় বুধবারের দুপুরটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, দিনটি রূপ নিয়েছিল স্মৃতি, আবেগ ও ইতিহাসের এক বিরল মুহূর্তে। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার গাম্ভীর্যের মাঝেও সেখানে ধরা পড়েছে এক সন্তানের হৃদয়ে পিতার প্রতি অমলিন ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বুধবার যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠান চলাকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্মারক। সেটি ছিল ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের গাজীপুর সফরের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন।

স্মারকটি হাতে নিয়েই কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে যান প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত অনেকে লক্ষ্য করেন, তিনি অত্যন্ত গভীর মনোযোগে স্মারকটির দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন সময় হঠাৎ করে পেছনে ফিরে গেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দৃঢ় ব্যক্তিত্বের আড়ালে তখন ফুটে উঠেছিল একজন পুত্রের আবেগঘন অনুভূতি।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য, সেই মুহূর্তে পুরো পরিবেশে এক ধরনের নীরব আবেগ ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর চোখেমুখে যেন ভেসে উঠছিল অতীতের স্মৃতি, পিতার কর্মময় জীবনের নানা অধ্যায় এবং শৈশবের অনুভূতি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাপিয়ে সেখানে ধরা দেয় এক মানবিক দৃশ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এমন উপহার শুধু একটি স্মারক নয়, এটি ইতিহাস ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, বস্তুগত দিক থেকে নয়, বরং আত্মিক অনুভূতির জায়গা থেকে এই উপহার তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সুধীজনও জেলা প্রশাসকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনেকেই বলেন, সাধারণ উপহারের ভিড়ে অতীতের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলার মতো এমন সৃজনশীল উদ্যোগ সত্যিই বিরল।

এক প্রবীণ অতিথি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, 'কিছু উপহার থাকে, যা শুধু দেখা যায় না, অনুভবও করা যায়।'

টঙ্গীর সাতাশ মৌজার সেই দুপুর তাই শুধু একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন হয়ে থাকেনি, এটি হয়ে উঠেছে ইতিহাস, স্মৃতি ও পিতা-পুত্রের আবেগঘন সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক। উন্নয়ন আর ব্যস্ততার এই সময়েও যে পিতার স্মৃতি সন্তানের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকে, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে রইল গাজীপুরের এই আয়োজন।