দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন আশা জাগালেও খুলনা-ঢাকা রুটে পদ্মা রেল লিংকের পূর্ণ সুফল এখনও পাচ্ছেন না যাত্রীরা। কারণ, পুরো অঞ্চলের যাত্রী চাহিদা সামলাতে এখনো শুধু ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটিই চলাচল করছে। মাত্র ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রার সুবিধায় ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তাই এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমিত আসনের জন্য। জানা যায়, প্রতিদিনই শতভাগ যাত্রী নিয়ে ছুটে চলছে ট্রেনটি, অথচ টিকিট না পাওয়ার কারণে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেলযাত্রা থেকে। নতুন রেল লিংক খুলনা, যশোর, নড়াইল ও গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণের কয়েক জেলার মানুষের জন্য ঢাকায় যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করেছে। তবে সীমিত আসনের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

খুলনা স্টেশনে ভোর থেকেই দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। ট্রেন ছাড়ার আগেই যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন টিকিট কাউন্টারের সামনে। অনলাইনে চেষ্টা করলেও টিকিট মেলে না। টিকিট কাটতে হয় কমপক্ষে তিন থেকে ১০ দিন আগে। প্রায় এক হাজার যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যাত্রী চাহিদার তুলনায় এটি অপ্রতুল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য খুলনা স্টেশনে টিকিট কাটতে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিন/চারদিন আগে টিকিট না কাটলে কখনও টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ অনেক সময় দ্রুত ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এত টাকা খরচ করে নতুন এই লাইনে মাত্র একটি ট্রেন চলে, যেটা বিভাগীয় শহর হিসেবে খুবই নগণ্য। আমাদের দাবি থাকবে দ্রুত এই লাইনে আরও ট্রেন যুক্ত করা হোক।

আরেক যাত্রী রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসার কাজে আমাকে প্রায়ই ঢাকায় যেতে হয়। খুব কম সময়ে ঢাকায় যেতে পেরে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। তবে অধিকাংশ দিনই টিকিট পাওয়া যায় না। আমরা শুরু থেকেই শুনে এসেছি, এ রুটে একাধিক ট্রেন আসবে, তবে তা কবে বাস্তবায়ন হবে কে জানে?

স্থানীয় নাগরিক নেতারাও দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে একাধিক ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটিসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এ দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন ও স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চল বরাবরই উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার। একটি বিভাগীয় শহর হিসেবে এ রুটে একটি মাত্র ট্রেন মোটেও যথেষ্ট নয়। এ লাইন যখন নির্মাণ হয়, তখন থেকেই কথা ছিলো, এ রুটে একাধিক ট্রেন চলবে; কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এত বিনিয়োগের প্রকৃত লাভ সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। আমরা আশা করবো দ্রুত এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমরাও পদ্মা রেল লিংক দিয়ে ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে চাই। কিন্তু একটি নতুন ট্রেন চালাতে চাইলে অনেক কিছু প্রয়োজন। যেমন নতুন ক্যারেজ, লোকবল, ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয়। এই মুহূর্তে সবকিছুরই কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে নতুন একটি প্রকল্পে ২০০টি ক্যারেজ ক্রয়ের কথা চলছে। নতুন ক্যারেজ আসার সঙ্গে সঙ্গে এ রুটে আমরা ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে পারবো। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১০ বগি নিয়ে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস চালু হয় পদ্মা রেল লিংক দিয়ে।