বালুমহাল দখল ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে টানা অভিযানে হাকিম হত্যা মামলার মূলহোতাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আবদুল্লাহ খোকন ওরফে ল্যাংড়া খোকন, মো. মারুফ, জিয়াউর রহমান, মো. সাকলাইন হোসেন, মো. সাকিব ও শাহেদ।
পুলিশ জানায়, ৭ অক্টোবর বিকেলে মদুনাঘাট এলাকায় নিজ প্রাইভেট কারে করে শহরে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলীতে নিহত হন ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম। তার আগে সকালে তিনি হামিম এগ্রো ফার্মে গিয়েছিলেন। মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে মোটরসাইকেলে এসে সন্ত্রাসীরা হাকিমের গাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলী ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। পথেই মারা যান তিনি।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও হাটহাজারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গরিব উল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল্লাহ খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেয়। তার তথ্য অনুযায়ী ২ নভেম্বর চৌধুরীহাট এলাকা থেকে আরেক আসামী মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে মো. সাকলাইন হোসেনের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একনলা বন্দুক, একটি এলজি এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ৯ নভেম্বর রাতে একই এলাকার আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে— চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, একটি চায়না রাইফেল, একটি শটগান, রাইফেলের ৪৯ রাউন্ড গুলী, শর্টগানের ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলী, সাতটি ম্যাগজিন, দুইটি রামদা, একটি রকেট ফ্লেয়ার, ৫০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৯৬ হাজার টাকা। সেখান থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, বালুমহালের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর সূত্র ধরেই ব্যবসায়ী হাকিমকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
বাংলাদেশকে ২৫ মিলিয়ন ক্রোনা সহায়তার ঘোষণা ডেনমার্কের
স্টাফ রিপোর্টার: মানবাধিকার সুরক্ষা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশকে ২৫ মিলিয়ন ডেনিশ ক্রোনা (প্রায় ৪০ কোটি টাকা) সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। এ অর্থ ডিগনিটি, আইএমএস ও ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটসের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।
গতকাল সোমবার ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। দূতাবাস জানায়, এই কনসোর্টিয়াম স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে কাজ করবে। বাংলাদেশে ডেনিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কার এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে, কারণ এই তিনটি সংস্থা নাগরিক সমাজকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রচারে সহায়তা করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রাখে।
কনসোর্টিয়ামের তিনটি সংস্থাই এমন দেশে কাজের অভিজ্ঞতা রাখে, যেখানে দমনমূলক শাসন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া একসঙ্গে বিদ্যমান এবং যেখানে নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিগনিটি-এর সিইও রাসমুস গ্রু ক্রিস্টেনসেন বলেন, একটি শক্তিশালী নাগরিক সমাজ মানবাধিকার অগ্রগতি, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতন ও সহিংসতার শিকারদের পুনর্বাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিগনিটি বাংলাদেশের স্থানীয় অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে সারভাইভার-কেন্দ্রিক সেবা প্রদানে সহায়তা করতে আগ্রহী।
আইএমএসের নির্বাহী পরিচালক জেসপার হোইবেরগ বলেন, আমরা জানি, অর্থবহ পরিবর্তন কেবল প্রকৃত অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই সম্ভব। স্থানীয় সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন তথ্য পেতে পারে, সাংবাদিকরা সুরক্ষিত থাকে এবং বিভিন্ন মতের কণ্ঠস্বর শোনা যায়। ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার ও শক্তিশালীকরণের ওপর বিশেষভাবে কাজ করবে। সংস্থাটির আন্তর্জাতিক পরিচালক মেটে থাইগেসেন বলেন, আমরা দেখি, এখন বাংলাদেশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নাগরিক সম্পৃক্ততার এক বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সঙ্গে কাজ করে মানবাধিকার দাবি ও সংস্কারের রূপরেখা তৈরিতে সহায়তা করব।