ট্রেনে ভাড়া বৃদ্ধির প্রথম দিনে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একদিনে ৮৩টি ট্রেনে অভিযান পরিচালনা করে টিকিটবিহীন ৪ হাজার ৬০ জন যাত্রীকে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তাদের কাছ থেকে ভাড়াসহ জরিমানা আদায় হয়েছে মোট ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮০ টাকা। গতকাল রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশ করা এক তথ্যে বিষয়টি জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, শনিবার বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে মোট ৮৪ জন টিটিই কাজ করেছেন। তারা ৮৩টি ট্রেনে টিকিট পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে টিকিটবিহীন ভ্রমণকারী শনাক্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৬০ জন।

অভিযানে মোট ভাড়া আদায় হয়েছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৫ টাকা এবং জরিমানা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ টাকা। সব মিলিয়ে রেলওয়ের আয় দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮০ টাকা। ওইদিন মোট ১ হাজার ২৭৮টি টিকিট যাচাই করা হয়।

এর আগে শনিবার ঢাকা-কক্সবাজারসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। গত ১৩ বছরে সরাসরি কিংবা কৌশলে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে অন্তত পাঁচবার। এবার সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে আসন ও রুটভেদে সর্বনি¤œ ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সব রুটে নয়, নির্দিষ্ট কিছু রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতেই এই ব্যবস্থা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০১২ সালে ছিল ৫৮৫ টাকা। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৭২৫ টাকা। ২০২৪ সালে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের পর ভাড়া দাঁড়ায় ৮৫৫ টাকা। নতুন পন্টেজ চার্জ যুক্ত হওয়ার পর এখন যাত্রীদের দিতে হচ্ছে ৯৪৩ টাকা।