চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর এলাকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা ও গুলীবর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান শ্যুটার মো. ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি শর্টগান ও দুইটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মিয়াখান নগরের ময়দারমিল স্কুল মাঠসংলগ্ন সড়কে পূর্ব শত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মোরশেদ খান গ্রুপ ও শওকত গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় দুই পক্ষ পিস্তল, শর্টগান, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলীবর্ষণ ও হামলায় জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের নেতৃত্বে ফারুক হোসেন, হোসেনসহ অন্যান্যদের ছোড়া গুলীতে পথচারী ১৩ বছর বয়সী শিশু ফাহিমের দুই পায়ে গুলীবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বাকলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে দুইটি দেশীয় কিরিচসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় আহত শিশু ফাহিমের বাবা মো. সোলাইমান বাদশা বাদী হয়ে মোরশেদ খান, শওকত, ফারুক ও হোসেনসহ একাধিক আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় বাকলিয়া থানার বিশেষ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ৫ এপ্রিল রাত ২টা ৩০ মিনিটে ফারুকের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শর্টগান ও দুইটি কার্তুজ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ধারাবাহিক অভিযানে ৬ এপ্রিল গুলীবর্ষণে জড়িত শওকত এবং ৭ এপ্রিল হোসেনকে বাকলিয়া ও কর্ণফুলী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
সবশেষে ৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব বিন্দারখীল পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক শ্যুটার ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ফারুক হোসেন (৫০) লক্ষীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগরে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।