রাজশাহী মহানগরীতে জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নগরীর বসুয়া গ্রামের কথিত নয়ন গ্রুপ এবং তার সহযোগীরা শান্তকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। নিহত মো. শান্ত নগরীর রাজপাড়া থানার আলিগঞ্জ এলাকার সাত্তার আলীর পুত্র এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাশিয়াডাঙ্গা থানা শাখার কর্মী ছিলেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর রাজপাড়া থানার আলিগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় নিহত শান্তের সঙ্গে ওই এলাকার কয়েকজনের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা শান্তকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জামায়াতের রাজপাড়া থানার সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান বলেন, “সুদের টাকার প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার বুধবার রাতে তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ঋণের সুদ আদায়ের প্রতিবাদ করায় বসুয়া গ্রামের নয়ন এবং তার সহযোগীরা শান্তকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতলের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে. বিশ্বাস বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম নিয়ে শান্ত নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে অনেক জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার পুলিশ জানায়, বিরোধের জেরে স্থানীয় একদল লোক শান্তকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শান্তর মামা ডালিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী রিপন, নয়ন, রুবেল এবং মঞ্জুর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মূলত এ বিরোধের জেরেই তিনি খুন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করছি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আলিগঞ্জ এলাকায় গত বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী শান্তকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজশাহীতে আমাদের কর্মী শান্তকে নির্মমভাবে হত্যা করা নিঃসন্দেহে একটি ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা। এই বর্বর হত্যাকাণ্ড মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। নিহত শান্তর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান রবের নিকট দোয়া করছি।

তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের পরিচয় যা-ই হোক না কেন, অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীরা শাস্তি না পেলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে এবং সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ঘটনার পেছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিবৃতিতে শান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।