আশাশুনি সংবাদদাতা : উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়দল বাজার সংস্কারের অভাবে চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সরকারি ভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না দেখে বাজারের ঢালাই রাস্তা,(কংক্রিট),চাঁদনী ঘর,পাকা ড্রেন,পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নের দাবী জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মোল্লা । বুধবার (১৪ জানুয়ারী) সকালে লিখিত আবেদনটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমুর কাছে জমা দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে,বাজারটি দক্ষিণ খুলনার বৃহত্তর মোকাম হিসাবে ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ ছিল। এক পর্যায়ে ছোট কলিকাতা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল বাজারটি। সে সময় বাজার হতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা,শহর বন্দরের ব্যবসায়ীগণ পাইকারী মালামাল খরিদ করে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। সপ্তাহে রবিবারে হাট বসে। হাটের অধিকাংশ মালামাল আসতো নদী পথে। কালের বিবর্তনে ও পার্শ্বস্থিত কপোতাক্ষ নদ ১৫/২০ বছর পলি জমে ভরাট হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মালামাল বহনের নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাজারের কলেবর ছোট হয়ে গেলেও বর্তমানে শুক্রবার,শনিবার ও রবিবার তিন দিনে বিভিন্ন ধরনের কাপড় সহ অন্যান্য মালামাল পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় হয়ে থাকে।

বাজারটি দীর্ঘকাল ব্যক্তি মালিকানায় ছিল। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জনস্বার্থে ও সরকারি স্বার্থে বহু ত্যাগ ও চেষ্টায় কয়েকজন উচ্চপদস্থ দেশপ্রেমিক সরকারি কর্মকর্তা দ্বারা বাজারটি পেরিফেরিভুক্ত হয়েছে। ফলে বাজার হতে অনেক রাজস্ব আদায় হচ্ছে। কিন্তু নানাবিধ সমস্যার যাকাকলে পড়ে ব্যবসায়ী ও ক্রতাসাধারণ ভোগান্তিতে রয়েছে। বাজারের চলাচলের রাস্তাগুলো খুবই নাজুক হওয়ায় মালামাল বহন, মানুষের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। হাটুরিয়া ব্যবসায়ীদের চাঁদনী ঘরের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে মালামালের পসরা বিছানো অসম্ভব হওয়ায় ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। এছাড়া বাজারে মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক স্থায়ী দোকানদারদের বাড়ির মধ্যে বর্ষাকালে পানি জমা হয়ে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয় এলাকাবাসী। বাজারকে ব্যবসা উপযোগি করতে এবং বৃহত্তম মোকামকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের হার বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ঢালাই রাস্তা (কংক্রিট),চাঁদনী ঘর, পাকা ড্রেন, পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণ করা সহ বাজারের উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

ঐতিহাসিক পাতরাইল শাহী মসজিদ

মফস্বল ডেস্ক: বাংলাদেশের সুলতানী আমলের ঐতিহাসিক একটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও স্থাপনা হল পাতরাইল শাহী জামে মসজিদ। অসাধারণ সৌন্দর্যমন্ডিত এ মসজিদটি কালের আবর্তে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়ভাবে একে পাতরাইল মসজিদ বা মজলিস আউলিয়া মসজিদ নামে ডাকা হয়।

প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আউলিয়া খান জামে মসজিদ যা ১৩৯৩ হতে ১৪১০ খ্রি. মধ্যে গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ নির্মাণ করেন বলে ধারণা করা হয়। এ ঐতিহাসিক মসজিদের দক্ষিণ পাশে চিরনিন্দ্রায় শায়িত আছেন মহান আউলিয়া মজলিস আউলিয়া খান। মসজিদের আঙ্গিনায় আছে মস্তান দরবেশ নাজিমদ্দিন দেওয়ানের মাজার। আউলিয়া খানের মাজারের দক্ষিণ পাশে আছে ফকির ছলিমদ্দিন দেওয়ানের মাজার। জনশ্রুতি আছে যে, অত্র এলাকায় প্রজাদের পানীয় জলের সমস্যা নিরসনকল্পে ও ইবাদতের জন্য মসজিদের পার্শ্বেই ৩২.১৫ একর জমির উপর একটি দীঘি খনন করেন। বর্তমানে এটি ভাঙ্গা উপজেলাধীন পাতরাইল দীঘিরপাড় আউলিয়া মসজিদ নামে সুপরিচিত। মসজিদটি বর্তমানে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন আছে। মসজিদগাত্রে অসাধারণ সৌন্দর্য্যমন্ডিত ইসলামী মটিফ ও ফুল লতাপাতার কারুকাজ রয়েছে। যা দর্শকের হৃদয় আকর্শন করে।

কিভাবে যাওয়া যায়: পাতরাইল মসজিদে কিভাবে যাবে? ফরিদপুর থেকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গা গেলচত্ত্বরে নেমে ভাঙ্গা-মাওয়া বিশ্বরোডে ৮ কিঃ মিঃ পূর্বদিকে পুলিয়া নেমে ৪ কিঃমিঃ দক্ষিণে পাতরাইল মসজিদ।