মোংলা সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌর শহরে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই বেড়েছে যে, চোরদের হাত থেকে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রেহাই পাচ্ছেন না।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেওড়াতলা জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. শাহনুর টিঙ্কুর বাড়িতে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা একটি দামি স্মার্টফোন এবং ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে রাখা নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

চুরির শিকার শুধু সাধারণ মানুষই নন। কেওড়াতলা এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক কাজী মাহফুজ জানান, তাঁর বাড়িতে ভাড়া থাকা মোংলা থানার এক পুলিশ সদস্যের একটি বাইসাইকেলও কিছুদিন আগে চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া চলতি মাসের ৮ জানুয়ারি একই ওয়ার্ডের মুসলিম পাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মিলনের একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে মোংলা পোর্ট শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ছোটখাটো অপরাধ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাঁদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ বিশেষভাবে দায়ী। প্রথমত, এলাকায় মাদকসেবী ও মোবাইল জুয়ায় আসক্ত তরুণদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মাদক ও জুয়ার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই একটি অংশ এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, কেওড়াতলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় কিছু বখাটে তরুণ নিয়মিত আড্ডা দিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে করে ওই এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এগুলো বড় কোনো পরিকল্পিত চুরি নয়, বরং বেশিরভাগই মাদকসেবীদের কাজ। এলাকায় মাদকের বিস্তার বন্ধ করা না গেলে চুরি ও অপরাধ কমানো কঠিন হবে।”

মোংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, জিয়া সড়কের ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে প্রকাশ্যে সিএনজি পরিবহনে চলছে চাঁদাবাজি। ধামরাই উপজেলার কাওয়ালীপাড়া ও নবগ্রাম বাজারে সিএনজি প্রতিটি পরিবহন থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে চলছে এই চাঁদাবাজরা। কাওয়ালীপাড়া বাজারে ২ শতাধিক সিএনজি ও হ্যালো বাইক পরিবহন থেকে মাসে ৩ লাখ টাকার চাঁদা তোলা হচ্ছে। এদিকে কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পরিবহন সেক্টরে এরকম চাঁদাবাজি চললে ও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করেই করছে। অভিযোগ উঠেছে যে নবগ্রাম বাজার বনিক সমিতির তথাকথিত কমিটির চাঁদাবাজদের সাথে মিলে মিশে পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজির তিন লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে।

মতলব (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২০ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনজন সাংবাদিকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকার প্রতিনিধি জহিরুল হাসান মিন্টুর মালিকানাধীন ষাটনল কনু মার্কেটের একটি কনফেকশনারি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এর আগে চাঁদপুরের মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক এবং দৈনিক চাঁদপুর সময় পত্রিকার প্রতিনিধি সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম রানার ভাড়া বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে চোরেরা ছেংগারচর পৌর ভবন সংলগ্ন মিন্টু ভবনের ৪র্থ তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করে।

ঘটনার সময় তিনি কাজের প্রয়োজনে বাসার বাইরে ছিলেন এবং তার স্ত্রী বাসার সাধারণ লক দিয়ে নিচে নামেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে নগদ ৩৯ হাজার টাকা এবং কাঠের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ার ভেঙে ৫ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার চুরি করে নেয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চোরাই মালামালের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।