সিলেট ব্যুরো

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্বাস আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক জামায়াত কর্মী ও ব্যবসায়ীর ওপর একাধিকবার হামলা এবং তার বাড়িতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়ে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে জীবন হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. পিয়ার আলী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি জামায়াতে ইসলামী মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী আঞ্চলিক শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং শ্রীরামসী বাজারে ‘সালমান এন্ড তিশা ট্রেডার্স’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা তো দূরের কথা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত হয়নি।

তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ইফতার মাহফিল, লিফলেট বিতরণ, জনসমাবেশ ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে পালন করেন। এসব কর্মসূচিতে সিলেট জেলা ও জগন্নাথপুর উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এতে এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্বাস আলী ও যুবদল নেতা পারভেজ আহমদের নেতৃত্বে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্বাস আলী পূর্বে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। পিয়ার আলী অভিযোগ করেন, ওই চক্রের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার ওপর অন্তত তিনবার অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এখনও তার শরীরে সেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার শিকার হলেও তিনি কোনো বিচার পাননি। বরং অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৪ মার্চ রাতে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থানকালে একদল ব্যক্তি তার বাড়ি ঘেরাও করে বিদ্যুৎ ও ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নেয়। পরে তার বসতবাড়িতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের’ একটি সাজানো ঘটনা সৃষ্টি করে তা গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। তিনি এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পূর্বপরিকল্পিত দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানান এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি করেন।