লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা

একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও পেশাদরিত্বের মাধ্যমে নিজেদেরকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য যোগ্যতর এবং সময়োপযোগী হিসাবে গড়ে তুলতে নবীন আইনজীবীদের আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

গতকাল বুধবার লক্ষ¥ীপুরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত নবীন আইনজীবিদের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাখা সভাপতি এডভোকেট নাজির আহমদের সভাপতিত্বে ও লক্ষ্মীপুর কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট মহসিন কবির মোরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমীর এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। আরো বক্তব্য রাখেন ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের লক্ষ্মীপুরে জেলা শাখার সেক্রেটারি এডভোকেট শাহাদাত হোসেন ও লক্ষ্মীপুরে জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা নাছির উদ্দিন মাহমুদ প্রমূখ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, আল্লাহ তা’য়ালার মানুষকে জীবন-যৌবনের পুঁজা করার জন্য দুনিয়াতের প্রেরণ করেন নি বরং তার খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছেন। খলিফা বা প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো আল্লাহর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করা। বস্তুত, আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনে হক্বকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করার দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। অথচ পরাক্রমশালীরা সব সময়ই এ আন্দোলনের প্রতিপক্ষ। কিন্তু একজন মোমিন হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কুরবানীর মাধ্যমে দ্বীন বিজয়ের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো। এক্ষেত্রে মতপার্থক্য বা মতবিরোধ করার সুযোগ নেই। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য আইনজীবি সহ সকল পেশার মানুষকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাভিত্তিক সমর্থন সহ সার্বিক সহযোগিতার আহবান জানান।

তিনি বলেন, গণমানুষের শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে আদালত। কিন্তু পতিত স্বৈরাচারি আমলে দেশের বিচারবিভাগ সহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। ফলে মানুষ ন্যায়বিচার ও ইনসাফ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্বৈরাচারের পতনের পর দু’বছর হয়ে আসলেও দেশের আইন-আদালতকে স্বৈরাচারী ভূতের আছরমুক্ত করা যায় নি বরং সবকিছু এখনো অনেকটা অশুভ বৃত্তেই রয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য একধিক অধ্যাদেশ জারি করলেও নতুন সরকার সেসব অধ্যাদেশের আইনীভিত্তি দিতে গড়িমসি শুরু করেছে। তারা গণভোটেরও বৈধতা দিতে চায় না। তাই দেশ ও জাতির এমন ক্রান্তিলগ্নে নবীন আইনজীবিদের সরকারি ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।