খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। গত চার দশক বছর ধরে এ সমস্যাটি এ অঞ্চলে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় এ অঞ্চলের নদ-নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়েছে উত্তরণ ও পানি কমিটি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় জনগণের পক্ষে বলা হয়, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অববাহিকা সমূহে দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ, টিআরএম বিলের অধিবাসীরা যাতে সহজে ক্ষতিপূরণ পায় তার ব্যবস্থা করা এবং সকল কর্মকান্ডে জনগণ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ পলি দ্বারা নদী ভরাট হওয়া। জোয়ারে আগত গলি প্লাবন ভূমি বা বিলে অবক্ষেপিত হতে না পেরে তা নদীবক্ষে অবক্ষেপিত হয়ে নদীর বুক প্লাবন ভূমি থেকে উঁচু হয়ে যায়। যার ফলে বর্ষা মওসুমের পানি পোল্ডারের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বছরে ৬-৯ মাস বা কোন কোন বিল সারা বৎসর জলমগ্ন থাকে। এর ফলে দেখা দেয় নীচু বসতি এলাকায় বসবাস সংকট, ধান ও মাছ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় এবং কর্মসংস্থানের সংকট।
পলি সমস্যার কারণে উপকূলীয় নদীগুলো ক্রমশঃ মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে। যশোর অঞ্চলের টেকা মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা, বুড়ীভদ্রা ও হরিহর, শিবসা ও কড়–লিয়া নদী এবং সাতক্ষীরা জেলার কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবণ্যবতী, গলঘেষিয়া ও খোলপেটুয়া প্রভৃতি নদীগুলোতে বর্ধিত হারে পলি জমে নদীগুলো দ্রুত মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। সুন্দরবনের বনভূমি ও নদী খালগুলোতে ব্যাপকহারে পলি জমে পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।
সম্মেলনে আরো বলা হয়, জনগণ কর্তৃক ১৯৯১ সালে বিল ডাকাতিয়া এবং ১৯৯৭ সালে ভবদহ অঞ্চলের হরি অববাহিকার ভায়না বিলে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি চালু করা হয়। সরকার কর্তৃক ভায়না বিলে একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে এ পদ্ধতি কার্যকরী বিবেচিত হওয়ায় ২০০২ সালে বিল কেদারিয়ায়, ২০০৬ সালে খুকশিয়া বিলে এবং ২০১৫ সালে কপোতাক্ষ অববাহিকায় তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ওই সব এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখন সব অববাহিকায় টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ আছে। বাস্তবতা হচ্ছে টিআরএম ছাড়া অন্য কোনভাবে সমস্যা নিরসন করা সম্ভব নয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি কমিটির নেতা মো. রেজাউল করিম, সেলিম আখতার স্বপন শেখ, জিল্লুর রহমান ও শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ।