সারিয়াকান্দি সংবাদদাতা
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।
গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যমুনা নদীর বিভিন্ন চর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাছ ধরার বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারি ও ইনভার্টারের সাহায্যে পানিতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করে আসছিল। এতে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি নদীর অন্যান্য জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশি সহায়তায় এ অভিযান চালানো হয়।
সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে নদী থেকে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ২টি ইনভার্টার, ৪টি বড় আকারের ব্যাটারি এবং প্রচুর পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার জব্দ করা হয়। এছাড়া শক দিয়ে ধরা প্রায় ৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে জব্দকৃত মাছগুলো কালিতলা ঘাটে স্থানীয় দুটি মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। তবে মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় জেলেরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দিনে-রাতে প্রকাশ্যে নদীতে এই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে মাছ শিকার বাড়ছিল। এতে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর তলদেশের প্রাণিসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদ বলেন, ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে মাছ ধরা আইনত দ-নীয় অপরাধ। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করায় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যারা প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে এমন অবৈধ কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমাদের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।