অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং পেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বহুল প্রতিক্ষীত উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না। বিগত নির্বাচনগুলো নিয়ে মানুষের মাঝে বিস্তর অসন্তোষ বিরাজমান। ভয়েস নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি এ কথা বলেন। জেসমিন টুলি বলেন, একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পর্যক্ষেণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলেক্ষ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ প্রণীত পর্যবেক্ষণ ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় খুলনা মহানগরীর শিল্পকলা একাডেমির থিয়েটার হলে উক্ত কর্মশালার আয়োজন করা হয়। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার নির্বাচনী আসনগুলোর তিন শতাধিক পর্যবেক্ষক উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষকগণ যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য কর্মশালায় পর্যবেক্ষণের নীতি, পদ্ধতি, নির্বাচনী আইন ও বিধি এর নানান দিক নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
ভয়েস নেটওয়ার্কের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও জাতীয় উন্নয়ন সংস্থা ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন এর সভাপতিত্ব করেন। ভয়েস নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ও এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক একরামুল হক সায়েম এর সঞ্চালনায় উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভয়েস নেটওয়ার্কের ভাইস চেয়্যারম্যান ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: সাহাবুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন – খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ, খুলনা প্রেসক্লাবেব সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন – বিএফউজে’র সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, নির্বাচন অবজার্ভার বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ শাহীন প্রমুখ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, আমরা যার যার অবস্থান থেকে পর্যবেক্ষণসহ নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বগুলো সৎভাবে এবং যথাযথভাবে পালন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরপর তিনটি নির্বাচনে গণমানুষের ভোটাধিকার ছিলনা। একটি গোটা জেনারেশন জানেই না, ভোটাধিকার প্রয়োগ কীভাবে প্রযোগ করতে হয়। গণতন্ত্রের স্বাদই তাদের অজানা।
একটি অনুকূল, অবাধ, নিরাপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অপরিবার্য অংশ। যা গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করবে। কারণ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক শাসনের মূল ভিত্তি।
বক্তারা বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করবে।