ইন্দোনেশিয়ার ত্রিশক্তি ইউনিভর্সিটির অর্থনীতি অনুষদের প্রফেসর এবং কানাডার কেইপ বৃটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস-এর সাবেক প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশকে গড়তে হলে শিক্ষার ব্যাপারে ভাবতে হবে। জাতিকে কোন শিক্ষানীতি দেয়া হলো তা বড় প্রশ্ন। একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। সংস্কার শুরু হয়েছে। নতুন বাংলাদেশে নতুন মনন নিয়ে শুরু করতে হবে। পঁচানব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে কী মডেল হবে তা ভাবতে হবে। পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, অফুরন্ত জ্ঞানের ভান্ডার হচ্ছে কুরআন। কুরআন হচ্ছে জ্ঞানের সর্বকল্যাণের উৎস। কুরআনে অযৌক্তিক ও অসত্য বলে কিছু নেই। কুরআনের সবকিছুই সর্বজনগ্রাহ্য সত্য।

আইআইইউসি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ইনস্টিটিউট অব কোয়ালিটি এশ্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘‘ইসলামিক সোশিও-ইকনোমিক প্ল্যানিং মডেল ফর বাংলাদেশ রিফর্ম” শীর্ষক এক সেমিনারে মুখ্য আলোচনা উপস্থাপনকালে প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী কথাগুলো বলেন। সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর আতিথ্যে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সূচনা বক্তব্য রাখেন আইকিউএসি-এর পরিচালক এবং আইআইইউসি’র ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান খান। নির্ধারিত আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং ফাইন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. শাহাদাত হোসাইন । এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসি’র গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন, আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনজুর আলম। দুদিন ব্যাপী সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. শাহ মুহাম্মদ ছানাউল করি

নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনায় প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিবেক একটি সক্রিয় ও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিবেক কীভাবে একটা নতুন বিশ্ব গড়ে তুলবে তা ভাবার জন্য বিবেক দরকার। বিবেকের সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন রয়েছে। বিবেককে পরিমাপ করা যায়না। তিনি বলেন, এখন কেবল আমি আর আমি নাম ও খ্যাতির পেছনে ছুটছি। সবকিছুই আমি আর আমির মধ্যেই হচ্ছে। আমি ও আপনার মধ্যে সব হতে হবে।অর্থনৈতিক সমস্যা বিশ্বের একটা বড় ইস্যু।

সমাপনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, আমরা এমন এক উন্নয়ন কাঠামোর কথা বলছি, যেখানে উন্নতিটা শুধু ভৌত বা অবকাঠামোগত নয় বরং মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমতা এবং সার্বিক মানবিক কল্যাণকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক উন্নয়ন মডেল সেই সমন্বিত পথটিই দেখায়। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন বিকল্প উন্নয়ন-ধারা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। প্রচলিত উন্নয়ন মডেল যেখানে অসমতা ও নৈতিক সংকট দূর করতে ব্যর্থ, সেখানে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক উন্নয়ন ধারণা এক স্বতন্ত্র ও বাস্তবসম্মত পথপ্রদর্শন করে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে এই মডেল স্বতঃসিদ্ধভাবে মানানসই এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এ ধরনের গবেষণামূলক সেমিনার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিন্তার মানসিক পরিধি প্রসারিত করে এবং জাতীয় উন্নয়ন কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির যোগান দেয়। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক উন্নয়ন মডেল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপস্থাপিত নির্ধারিত আলোচনার উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, ড. মাসুদুল আলম চৌধুরীর আলোচনা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রেরণাদায়ক। ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক উন্নয়ন মডেল দেশের টেকসই অগ্রগতিতে শুধু অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, বরং সামাজিক, নৈতিক ও শিক্ষাগত দিকগুলোও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

এই ধরনের বিষয়ভিত্তিক সেমিনার শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে নতুন চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স প্রফেসর ড. শাহাদাত হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বাসকে ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী উন্নয়নের যে মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের বিশ্বাস ও বাস্তবতার সেতুবন্ধন তৈরী হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।