নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: উপজেলার ২নং মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাপাইল বিলের মাঝখানে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে নির্মিত অর্ধ সমাপ্ত দুই সেতু এখন এলাকাবাসীর গলার কাটাঁ হয়ে দাড়িয়ে আছে।
সংযোগ সড়কহীন এ দুটি সেতু কোন কাজে না আসায় বর্তমানে সেতু দুটি ব্যবহার অনুপযোগি তথা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সেতুর অভাবে বিলপাড়ের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বন্যায় বিলের পানি যাতে বাপাইল বিলের উত্তর পাশে থাকা উচু জমিতে প্রবেশ করতে না পারে সে কারণে বিলের পূর্বপাশ থেকে উত্তর দিকে হয়ে ২ কিমি দৈর্ঘের প্রশস্ত একটি বেড়ি বাঁধ নির্মান করা হয়। ১৯৯৫ সালে ১১’শ টন গমের বিনিময়ে নির্মিত বেরিবাঁধটি সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর বাড়ির পিছন থেকে শুরু হয়ে কাদিরপুর ফরিদখালী সেতুতে গিয়ে মিশেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হিসাবে নির্মিত হলেও বিল পাড়ের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ সহজ করা এবং বিলে উৎপাদিত ফসলাদি যানবাহনে করে দূরবর্তী বাড়িতে নিয়ে যাওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বেরিবাধঁ নির্মাণের পরপরই বাঁধের মাঝখানে থাকা খয়রা খাল এবং ফুতারপুরী খালে খালের উপর দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দুটি সেতুরই পিলারসহ পাটাতন নির্মিত হলেও রেলিং এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে যে উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থ ব্যয়ে বেরিবাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে সেতু দুটির পিলার এবং পাটাতনে ঢালাই ক্ষয়ে গিয়ে জং ধরা রড বের হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আলমগীর ও আয়নাল জানান, বিলে উৎপাদিত হাজার হাজার মণ ধান চাষীদের বাড়ি নিতে তাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাবুল মিয়া জানান, এ দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে অনেক কৃষক পাইকারদের কাছে প্রতি মণ ধান বাজার দর থেকে ৫০ টাকা কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আহসান উল্লাহ বলেন, ৩০ বছর আগের কথা, বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় তবে সেতুর বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল অফিস বলতে পারবে।
নান্দাইল উপজেলা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক বিশ্বাস জানান, বিষয়টি তার জানা নাই। সরজমিন পরির্দশন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।