জামায়াত নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামীকাল নির্বাচন হলেও জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে। তবে, তার আগে গণহত্যার বিচার, মৌলিক সংস্কার এবং প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এটা না করে যেনেতেনভাবে একটা নির্বাচন জনগণ চায় না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সকল ইসলামী দল এবং সমমনা দেশপ্রেমিক দলকে সাথে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে হায়েনাদের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টাকে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ বলতে শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে গেছে। আমরা মানুষের এই আশঙ্কার কথা বিশ্বাস করতে চাই না। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে পরাজিত হয়নি, তেমনি এই সরকারকে কোনো একটি দল ক্ষমতায় বসায়নি। ড. ইউনূসের সরকার ছাত্র-জনতার সমর্থনে গঠিত হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক মাওঃ আব্দুর রহিম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বগুড়া শহর আমীর অধ্যক্ষ মাওঃ আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওঃ শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব দবিবুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রাথী নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকার, শিবিরের পশ্চিম জেলা সভাপতি সাইয়েদ কুতুব ও পূর্ব জেলা সভাপতি জুবায়ের আহমেদ। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওঃ আব্দুল বাছেত ও সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা কোনো গোষ্ঠীর জন্য রাজনীতি করে না। আমরা দেশের মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, মানবিক, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি থাকবে না। জনগণ জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আমরা রাজা হবো না; জনগণের সেবক হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবো। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমানা রক্ষার আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবে জামায়াত।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে নারীরা তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবেন। ঘরে-বাইরে সবখানে তারা মর্যাদার আসনে থাকবেন। চাকরির ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ পাবেন তারা। অমুসলিম ভাই-বোনেরা তাদের পূর্ণ নাগিরক অধিকার ভোগ করবে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কোনো দিন অমুসলিমদের এক ইঞ্চি জায়গাও জবর দখল করেনি। বরং যারা অমুসলিমদের ব্যবহার করে রাজনীতি করেছে এবং ভবিষ্যতে করতে চায় তারাই অমুসলিম ভাইবোনদের জায়গা-জমি দখল করেছে, লুট করেছে। তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আগামী নির্বাচনে দেশের অমুসলিম ভোটাররা এর সমুচিত জবাব দিবে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী নির্বাচনে নিশ্চিন্তে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কি-না সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় আছে। সরকার এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা হুঙ্কার দিচ্ছেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে না। আবার কেউ কেউ ঘোষণা দিচ্ছেন ব্যালট পেপার ছাপার সময় তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন। প্রয়োজনে নিজেরা ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। এটা নিশ্চয় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ভালো খবর নয়। এমন পরিস্থিতিতে মৌলিক সংষ্কার না করেই নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। যেনতেনভাবে নির্বাচন করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর স্বপ্ন জনগণ কোনো দিন পূরণ হতে দিবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যা করেছে। এসব জুডিশিয়াল কিলিংয়ের সাথে জড়িত বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষীসহ বিচারের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে দেশের মানুষ এসব অন্যায়কারীদের কঠোর শাস্তি দেখতে চায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।