মাগুরা সংবাদদাতা : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেড় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা। ঐতিহ্যবাহী এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে বড়রিয়া গ্রামের মাঠের মধ্যে নামে লাখো মানুষের ঢল। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা প্রতি বছর বাংলা পৌষ মাসের ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর এ ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে প্রায় পনেরো দিন ধরে চলে এ গ্রামীণ মেলা। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জনিত কারণে বিভিন্ন শর্তে এবার তিন দিনব্যাপী এই গ্রামীণ মেলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে মাগুরা, যশোর, নড়াইল, ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা গুলো থেকে সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে নামে লাখো মানুষের ঢল। মেলায় শিশু-কিশোর, ছেলে-বুড়ো, নারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসে। তাই শীতের দুপুরে মিষ্টি রোদে দূর দুরন্ত থেকে আসা নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ মাঠের মধ্যে এক কাতারে সারিবদ্ধ ভাবে পায়ে হেঁটে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি ঘোড়া অংশ নেয়। এরমধ্যে প্রথম হয়েছে বাঘারপাড়ার টুটুলের ঘোড়া, দ্বিতীয় হয়েছে শিয়াল জুড়ির মমিনের ঘোড়া এবং তৃতীয় হয়েছে যশোরের বাবু আলীর ঘোড়া। শীতের বিকালে মিস্টি রোদে অন্যরকম এক আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে লাখো দর্শক।

প্রায় তিন বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেলায় বসেছে হরেক রকমের দোকান। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নড়াইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নানা ধরনের তৈজসপত্র নিয়ে দোকানিরা মেলায় এসেছেন। বাহারি রকমের মিষ্টির দোকান, বড় সাইজের মাছের দোকান, বাচ্চাদের নানান রকম খেলনার দোকান, প্রসাধনীর দোকান, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান, নাগরদোলা, বাচ্চাদের রেলগাড়ি, বিভিন্ন রকমের আসবাবপত্রের দোকান বসেছে মেলায়।