মো. ফেরদাউছ মিয়া, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : শীতের প্রথম হাওয়া বইতেই পলাশবাড়ীর জনপদে যেন জমে উঠেছে লেপ–তোষক তৈরির উৎসব। সকালবেলা বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া, আর সেই সঙ্গে ধুনকরদের ব্যস্ততার টুংটাং শব্দ—সব মিলিয়ে শীতের আগমনী বার্তা যেন নতুন এক কর্মপ্রাণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
গত কয়েকদিন ধরে শীত একটু বাড়তেই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে পৌরশহরের হাট-বাজার—সব জায়গাতেই লেপ–তোষক তৈরির ধুম পড়ে গেছে। কেউ দোকানে বসে, কেউবা গ্রামের পথে পথে হাঁটাহাঁটি করে পুরনো লেপ খুলে তুলা ধুনিয়ে নতুন মতো সাজিয়ে দিচ্ছেন। ধুনকরদের হাতের টানে পুরনো লেপ-তোষক যেন হয়ে উঠছে একেবারে নতুন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার এসএম হাইস্কুল মার্কেট, টাউনহল বারান্দা, ঢোলভাঙ্গা, মাঠেরহাট, ফরিকহাট, আমলাগাছী, তালুকজামিরা ও কাশিয়াবাড়ীহাটÑ এসব চিহ্নিত স্থানে এখন প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা। তুলা পরিষ্কার করা, ধুনন, কাপড়ে মোড়ানো আর সেলাইÑ সব মিলিয়ে চলছে শীতের মৌসুমী কর্মব্যস্ততা।
“তুলার দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাই লেপ–তোষকের দামও বাড়ছে। ফলে অনেক ক্রেতা এখন লেপের বদলে কম্বল কিনে নিচ্ছেন। বাজারে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের কম্বল পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে কিছু চায়না কম্বল তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি।”
শীত বাড়ছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধুনকরদের ব্যস্ততা। শীত নিবারণের প্রয়োজনীয়তা যেমন আছে, তেমনি জীবিকার লড়াইও আছে এর সঙ্গে। শীতের প্রথম প্রহরেই তাই লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে মৌসুমী রঙ, গন্ধ আর মানুষের কোলাহলÑ যা পলাশবাড়ীর শীতের এক বিশেষ দৃশ্যপট হয়ে প্রতি বছরই ফিরে আসে।