মহলবিশেষের নীলনক্সায় দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু তত্ত্বকে ইস্যু বানানোর অপচেষ্টা চালানো হলেও আমাদের দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই; বরং ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, মত ও পথ নির্বিশেষে আমরা সকলেই গর্বিত বাংলাদেশী নাগরিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
গতকাল শনিবার লক্ষ্মীপুরে ১৮ নং কুশাখালী ইউনিয়নের পূর্বে কল্যাণপুরে মতিবাবুর বাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. রেজাউল করিম অগ্নিদুর্গত এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তসহ স্থানীয় জনগণের সাথে একান্তে কথা বলেন। তিনি তাদের সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ^াস দেন। এ সময়ে মহানগরী সেক্রেটারির সাথে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানা আমীর মাওলানা নুর মোহাম্মদ রাসেল, থানা অফিস সেক্রেটারি আবিদুর রহমান, কুশাখালী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা শফিক উল্যাহ ও সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত, থানা মাধ্যমিক শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি ও কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম খোকন প্রমুখ। পরিদর্শন শেষে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়।
ড. রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংখ্যালঘু কনসেপ্টেই বিশ^াস করে না। কিন্তু স্বাধীনতার ৫ দশক পরও দেশ ও জাতিস্বত্তা বিরোধী একটি অপশক্তি জাতিকে বহুধাবিভক্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দেশে সংখ্যালঘু তত্ত্ব প্রচার করে এসেছে এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতার নামে নিজেরাই সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়েছে। তারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মানুসারীদের সংখ্যালঘু আখ্যা দিয়ে তাদের অধিকারের কথা বলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলেও এদের দ্বারাই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা বেশি বেশি জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এরাই হিন্দুদের বাড়ীঘর, সহায়-সম্পতি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এদের দ্বারাই নারীরা বেশী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। এদের শাসনামলেই হিন্দু সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিলো। মূলত, এদেশে কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই বরং আমরা সকলেই একই মা ও মাটির সন্তান। তিনি দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র অপপ্রচার মোকাবেলায় জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিশ^নবী (সা.) মদিনা সনদের মাধ্যমে শুধু মুসলমানদের অধিকারই প্রতিষ্ঠা করেননি, বরং সব গোত্র ও ধর্মের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছেন। মদিনা সনদ আজও মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবার কাছে একটি শ্রেষ্ঠ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। মহানবী (সা.) ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের যে অধিকার সংরক্ষণ করেছেন তার ছিটেফোঁটাও কোনো ধর্ম ও মতবাদ আজ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। ইতিহাসে মহানবী (সা.) একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে অমুসলিমদের অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দ্বিন সম্পর্কে কোনো জবরদস্তি নেই। সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে স্বীকার করবে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করবে সে এমন এক হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬) অমুসলিমদের অধিকার সম্পর্কে বিশ^নবী (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখো, যে মুসলমান কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর জুলুম করবে, কিংবা তার অধিকার হরণ করবে, কিংবা তার ওপর সামর্থ্যের চেয়ে বেশি বোঝা চাপিয়ে দেবে, কিংবা তার কোনো জিনিস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেবে, সে মুসলমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগে আমি আল্লাহর আদালতে অমুসলিম নাগরিকের পক্ষে দাঁড়াব।’ (আবু দাউদ) মূলত, বিশ^নবী আদর্শই পারে দেশের সকল ধর্মের মানুষের অধিকারের নিশ্চিয়তা প্রদান করতে। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে জামায়াতের হাতকে শক্তিশালী করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
লক্ষ্মীপুরে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ঈদের পোশাক বিতরণ: লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী নাগরিক উন্নয়ন পরিষদ উদ্যোগে প্রান্তিক শ্রমিকদের মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। মান্দারী ইউনিয়নের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কুদরত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের আমীর নূর মোহাম্মদ রাসেল ও সেক্রেটারি এডভোকেট রেজাউল ইসলাম খাঁন সুমন। উপস্থিত ছিলেন ১৪ নং মান্দারী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মাহফুজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ৮০ জন শ্রমিকের মাঝে ঈদের পোশাক বিতরণ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।