গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনার পর গণপিটুনিতে দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর প্রায় ৫টার দিকে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের খোর্দমুজাহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝাউলা বাজার এলাকার তরফ জাহান গ্রামের দুখু মিয়ার স্ত্রী নাছিমা বেগম ঢাকায় থেকে ভোরে পলাশবাড়ীর ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় বাস থেকে নামেন। এ সময় কোনো যানবাহন না পেয়ে তিনি স্বামীকে ফোন দিলে দুখু মিয়া পায়ে চালিত ভ্যান নিয়ে তাকে আনতে যান। পরে স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ইদিলপুর ইউনিয়নের মাদারহাট ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের পথরোধ করে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা তাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণ-রূপার গহনাসহ মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে জানানো হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে তিন ছিনতাইকারী একটি মোটরসাইকেলে পালানোর জন্য খোর্দ্দ মুজাহিদপুর গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ডাকাত ডাকাত গেল এমন চিৎকার শুনে এলাকাবাসী রাস্তায় বাঁশ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে আটক করে। এ সময় অপর একজন পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা আটক দুইজনকে খোর্দ্দ মুজাহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) বিদ্রোহ কুন্ড জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে নিহতরা পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাতারপাড়া গ্রামের ময়নুল ইসলাম (৩২) ওরফে গালকাটা ময়নুল এবং লালু চোরের ছেলে আবু তালেব ভুন্ডুল (৩০) বলে জানা গেছে।
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলীম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।