বেরোবি প্রতিনিধি, রংপুর

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এর চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ-এর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তাঁর জন্য বরাদ্দ পরিবহন সুবিধাও বাতিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন ছুটির পরদিন গত রোববার সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী-এর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা। বৈঠকে দ্রুত রেজিস্ট্রারের নিয়োগ বাতিলের দাবি ওঠে। পরে সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গড়ায়।

ড. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তাঁকে ফোন করে অফিসে না আসতে এবং ছুটিতে থাকতে বলেন। তবে তিনি এতে সম্মত হননি। গত রোববার সকালে অফিসে গেলে তাঁকে ফোন করে অফিস ছাড়তে বলা হয়। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম তাঁর দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরে যেতে নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ড. হারুন আরও বলেন, নির্বাচনের আগে তাঁকে ‘জামাতি রেজিস্ট্রার’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর জন্য পরিবহন সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। পরে তিনি রিকশায় বাসায় ফেরেন। তাঁর দপ্তরে কোনো ফাইল না পাঠানোর জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, তিনি একটি মিটিংয়ে ছিলেন। তবে সেটি অন্য বিষয়ে ছিল। রেজিস্ট্রারের বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং মন্তব্য করার এখতিয়ারও নেই। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ড. হারুন অর রশিদ এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান। মেয়াদ শেষে তাঁর নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। তবে শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ কর্মকর্তা স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ইতিমধ্যে স্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে ভারপ্রাপ্ত বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দিয়ে পূর্ণকালীন নিয়োগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে। কমিশনের মতে, এসব পদে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রশাসনিক কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনায় সহায়ক।