রংপুরে গত মঙ্গলাবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ শওকাত আলী জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ডক্টর মাছুমা হাবিব। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আজম এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডক্টর হোসেন উদ্দিন শেখর।

বেরোবির ভিসি সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, দপ্তর ও আবাসিক হলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। পরে বেরোবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ডক্টর মাছুমা হাবিব। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান চির স্মরণীয়। রোকেয়ার দেখানো পথ ধরে আজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নারী শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। নারী জাগরণ ও নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আজম। এ সময় তিনি বলেন, লেখক হিসেবে রোকেয়া সাখাওয়াত ছিলেন বাস্তববাদী। এটি রোকেয়ার রচনা বা কাজের প্রধান সূত্র। নারীকে স্বাধীন, স্বশিক্ষিত ও আত্মনির্ভর মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অনন্য। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডক্টর হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বিশশতকের প্রথম দিকে নারী সমাজে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার ব্যাপক প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ শওকাত আলী বলেন, নারী জাগরণ, শিক্ষার প্রসার, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও সাম্যের চেতনায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যে স্বপ্ন লালন করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় আজ নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। মহীয়সী এই নারীর নামে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর আদর্শকে ধারণ করে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির সচিব ডক্টর মোহাম্মদ সেলিম রেজা প্রমুখ।

রোকেয়া দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘রোকেয়া-পাঠ’গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। রোকেয়া দিবস উপলক্ষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রোকেয়ার জন্মভুমী মিঠাপুকুরে পায়রাবন্দে জেলা প্রশাসন ৩ দিনব্যাপী রোকেয়া মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সকালে এর উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল এহসান এতে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। রংপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ পারভেজ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

মেলা উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃতি, বির্তক প্রতিযোগিতা, নাটিকা, প্রামান্য চিত্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল।