দেশজুড়ে তীব্র শৈত্য প্রবাহ চলছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। পৌষ-মাঘ মাসের মধ্যভাগে এসে হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজশাহীতে একদিনেই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে রাজশাহীতে নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রিতে। এতে করে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব, সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগের দিনের তুলনায় একদিনেই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬০০ মিটার। সকালজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করলেও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৬ শতাংশ। তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খুলনা ব্যুরো
দিনভর হিমেল হাওয়ার সাথে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিলো খুলনা মহানগরীসহ আশেপাশের এলাকা। কোথাও দেখা মেলেনি সূর্যের, রাস্তাঘাট ছিলো যেন আধো আধারে ঢাকা জনমানবহীন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসেনি মানুষ। কনকনে শীতে বিপর্যস্ত ছিলো জনজীবন।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচন্ড শীতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসী ঘরের বাইরে আসেনি। রাস্তাঘাট অনেকটা জনমানবহীন থাকায় ছোট যানবাহনের সংখ্যা ছিলো অনেক কম। সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি কোথাও। তীব্র শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। ভোগান্তিতে পড়ে খেটে খাওয়া দিন মজুর, ভ্যান, অটো, সিএনজি, রিকশা চালকেরা। রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম থাকায় ছোট যানবাহনের চালকরা অলস সময় পার করে। ফলে দিনশেষে এক প্রকার খালি হাতেই ঘরে ফিরতে হয় তাদের। শীতের কারণে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে বা রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণে জড়ো হয় নিম্ন আয়ের মানুষ।
খুলনায় জেঁকে বসা শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। গত কয়েক দিনের তুলনায় মঙ্গলবার দিনজুড়ে কর্মব্যস্ত ছুটে চলা নগরবাসী এই শীতের কবলে পড়ে কুপোকাত, প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না, যদিও কেউ বের হচ্ছেন, হবে মোটাসোটা শীতের গরম পোশাক পড়ে। তাছাড়া তীব্র শীতের কারনে নগরীর পাইকারি সবজির বাজার, বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, সড়কে ক্ষুদ্র-মাঝারী পরিবহনগুলোর উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
খুলনায় তীব্র শীত অনুভূত হওয়াই শীতের দাপটে পড়ে নগরীর বিপনী বিতান, গামেন্টস্, পুরানো শীতবস্ত্র দোকানসহ ফুটপাতের পোশাকের দোকানগুলো ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
মওসুমী শীত পোশাক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছরের সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে, যে কারণে বাজারে বেশ ক্রেতাদের সাড়া মিলছে। শীত যত বাড়বে, ততই বাজারমুখি হবেন ক্রেতারা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর স্থানীয় এলাকাগুলোতে শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রায় সব বয়সী মানুষ সাময়িকভাবে আগুন জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে।
শীত পোশাক ক্রেতা শাহিদা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল খুব শীত, মনে হচ্ছে বরফ পড়ছে। সেই সাথে প্রচুর বাতাসও। তাছাড়া কুয়াশা পড়ছে, বিশেষ করে মাঝ রাতে বেজায় ঠান্ডা পড়া ধরেছে। শীতের কারণে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ বেড়েছে। বড় বড় দোকান হতে শীতের কাপড় কেনার মতো টাকা আমার কাছে নেই। তাই এলাম ফুটপাতের দোকানে বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কেনার জন্য। তবে দাম একটু বেশি।
তবে ভিন্ন রূপ দেখা গেছে নগরীর বড় বাজার শীতের পোশাক ও কাপড়ের দোকানে। প্রচন্ড শীতে কারণে জমে উঠেছে খুলনা মহানগরীর বড় বাজার, ডাকবাংলা মোড়, ফেরিঘাট, শপিং কমপ্লেক্স, জব্বার মার্কেট ও রাস্তা পাশের হকারদের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পাড়া ভিড়। ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক কিনছেন।
খুলনা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে দোলা পরিবহনের কাউন্টার প্রতিনিধি সাবিত বলেন, শীতের কারণে যাত্রী কিছুটা কম। আমাদের সকাল পাঁচটা থেকে শিডিউল। কুয়াশার কারণে পাঁচটার শিডিউল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি গুলো যথা সময়ে সাড়ে পাঁচটা থেকে চলমান।
সাতক্ষীরা রোডের বাস চালক দাউদ হোসেন বলেন, “শীতের কারণে যাত্রী অনেক কম। জরুরি কাজ ছাড়া কেই এই ঠান্ডাতে বাহিরে বের হচ্ছে না।”
ভ্যান চালক সাইফুল বলেন, “সারা দিন তেমন কোনো যাত্রী ও মালামাল পাইনি। রাস্তায় লোকজন কম থাকায় আয় হয়নি।”
ঢাকার এক যাত্রী ওবাইদুর রহমান বলেন, “গত কয় এক বছরের চেয়ে এবার শীত বেশী পড়েছে। জরুরি কাজ, সে কারণে যাতায়াত। জরুরি না হলে এ শীতে বের হতাম না।”
ফেরিঘাট মোড়ের শীতের পোশাক বিক্রেতা শুকুর আলী বলেন, “বর্তমানে কাস্টমার একটু বেশি শীতের করণে। গত বছরের থেকে এ বছর বেচা কেনা কিছুটা বেশি।”
জব্বার মার্কেটের নয়ন এন্টারপ্রাইজের পরিচালক শাওন বলেন, “শীতের শুরুতে এখন এর চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে। এখন ভিড় বেশি, বেচা কিনা স্বাভাবিক।”
পোশাক কিনতে আসা আসাদুল্লাহ বলেন, “গত কয় এক বছর এর চেয়ে এ বছর শীত বেশি হওয়াতে পোশাকের চাহিদা বেশি। এ রকম ঠান্ডা আগে কখন আমি দেখিনি। বাজারে লোকজন বেশি হওয়াতে ঠান্ডা কম মনে হচ্ছে। বাচ্চার জন্য একটা ছয়েটার কিনব, সে জন্য বাজারে আসা।”
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, উত্তরের বাতাস ও আকাশে সূর্যের কিরন না থাকায় বেশি শীতের অনুভূত হচ্ছে।
শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
মাগুরায় যতই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে! সেই সাথে ভীড় বাড়ছে পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে। আবার নতুন করে শুরু হয়েছে শৈত প্রবাহ, কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন হচ্ছে বিপর্যস্ত। গত দু সপ্তাহ ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ পড়েছে মহা বিপাকে। সকাল থেকে শুরু হয় শৈত প্রবাহ, তীব্র কুয়াশায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সকাল থেকেই মিলছে না সূর্যের দেখা। তবুও ভোর হতেই কিছু কর্মকান্ত মানুষ বেরিয়ে পড়েছে কাজের সন্ধানে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাগুরার বিভিন্ন সড়কে ভোর হতেই মানুষের তেমন আনাগোনা নেই। ভোর থেকে মাগুরা একতা কাঁচা বাজারে সবজি বোঝাই করে বিভিন্ন নসিমন চলাচল করতে দেখা গেছে। এইসব নছিমনে শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন শিম বহন করতে দেখা যায়। নসিমনের চালকরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। কুয়াশা আর শৈত প্রবাহের কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে দুর্ঘটনা। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলে সূর্যের উকিঝুকি চোখে দেখা যাচ্ছেনা। সূর্যের আলো না থাকায় বেড়ে যায় আরো শীত।
রিক্সা চালক হাসানুর বলেন, তীব্র শীতে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারছি না। পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে সড়কে তীব্র শীত উপেক্ষা করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সকালে তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সড়কে কিছু লোক বের হলেও রিকশায় উঠতে চায় না। তাই তীব্র শীতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি।
নির্মাণ শ্রমিক মতিয়ার রহমান বলেন, গত চারদিন হল সূর্যের দেখা মিলছে না। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজে আসতে চায় না শ্রমিকরা। তবুও পারিবারিক আর্থিক অভাব অনাটনের কারণে তাদের কাজ করতে হয়। ইট, বালি, সিমেন্ট নিয়ে তাদের কাজ থেমে নেই।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে তীব্র শীত উপেক্ষা করে কর্মক্লান্ত মানুষকে অফিস আদালতে যেতে দেখা যায়। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সমাগম নেই।
এদিকে তীব্র শীত বেড়ে যাওয়ায় শীতের গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় বেড়েছে। মানুষ শীত থেকে বাচতে কম্বল ছেড়ে একটু স্বস্তির আশায় লেপতোষক বানানোর ব্যস্ততার সময় পার করছেন।
শীত বেড়ে যাওয়ায় শহরের ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের কাপড় কিনতে নানা বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষেরা শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন শহরের ফুটপাতে দোকান গুলোতে।
অন্যদিকে, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাগুরা ২৫০ শর্য্যার হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডা জনিত রোগে শিশু রোগির সংখ্যা বেড়েছে অত্যাধিক। তাছাড়া ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে মহা সমস্যায়। তাদের শীতবস্ত্র না থাকায় এবং সরকারি ভাবে কোন শীতবস্ত্র বিতরণ না করায় শীতে কষ্ট পাচ্ছে তারা। অবিলম্বে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত কম্বল শুধুমাত্র মাদ্রসার ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে বন্টন করা হবে বলে জানা গেছে। তবে বেসরকারি উদ্যোগে কিছু কিছু এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করার খবর পাওয়া যাচ্ছে!
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: উত্তরীয় বরফশীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশার দাপটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। কনকনে শীতের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে প্রকৃতি, কাঁপছে মানুষের জীবন-জীবিকা। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। দিগন্তজুড়ে কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। এই হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন জেলার নিম্ন আয়ের, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার ভোরে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকেই দৃষ্টিসীমা কমে আসায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।
শীতের এই চরম অবস্থায় স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহর ও গ্রামাঞ্চলে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে ও খোলা জায়গায় খড়কুটো, শুকনো লতাপাতা ও পরিত্যক্ত কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষ। আদিম এই আগুনের উত্তাপই যেন তাদের জীবনের শেষ ভরসা।
প্রকৃতির এই রূপ কারও কাছে রোমাঞ্চকর হলেও খেটে খাওয়া মানুষের কাছে তা হয়ে উঠেছে চরম বিপর্যয়। তীব্র শীতে হাত-পা অবশ হয়ে আসায় কাজে বের হতে পারছেন না অনেক দিনমজুর ও রিকশাচালক। যারা পেটের তাগিদে বের হচ্ছেন, তাদের দুর্ভোগ আরও বেশি। সাতক্ষীরা শহরের এক ভ্যানচালক বলেন, “হাত-পা জমে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশায় সামনে কিছুই দেখা যায় না। এই অবস্থায় ভ্যান চালানো খুবই কষ্টের।”
শ্যামনগরের ভেটখালী বাজারে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর মনিরুল ইসলাম জানান, “দুই দিন ধরে রোদ নেই। কনকনে বাতাসে শরীর শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তবুও কাজ না করলে সংসার চলবে না।” একই অভিযোগ ভ্যানচালক ও পরিবহন শ্রমিকদেরও। রোদ না ওঠায় যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে, আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র শীতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর ও ডায়রিয়া এবং বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান বলেন, “এই আবহাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার, ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং আগুন পোহানোর সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুমন রায় জানিয়েছেন, প্রচন্ড ঠান্ডায় সর্দি কাশি শ্বাসকষ্ট সহ নানা ধরনের অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, এই শীতে বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের সাবধানতা অবলম্বন খুব জরুরি।
শীতের এই হাহাকারের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে প্রশাসন। সম্প্রতি গভীর রাতে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক। খানপুর বাসস্ট্যান্ডের ছিন্নমূল মানুষ এবং ধুমঘাট জামিয়া ইসলামিয়া রশিদীয়া হুসাইনাবাদ মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ সহ নানান কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে।