মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকেঃ জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে মোংলা বন্দরের পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সংকটের ফলে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে না এবং অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে কার্যক্রমে অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেলগুলো থেকে পণ্য খালাস বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজগুলোর টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, যা দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তদন্তে জানা গেছে, পশুর নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শতাধিক লাইটার জাহাজ খালি অবস্থায় নোঙর করে আছে। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে খুলনার রূপসা অঞ্চলসহ চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায়, যেখানে বহু লাইটার জাহাজ কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে লাইটার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে এবং মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যত ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানায় পড়ছে, যেখানে কাঁচামালের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এমভি আর-রশিদ-০১ লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি না পাওয়ার কারণে তারা নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহন করতে পারেননি এবং জাহাজটি এক সপ্তাহ ধরে খালি অবস্থায় অপেক্ষায় রয়েছে।

খুলনার রূপসা এলাকায় অবস্থিত সেভেন সার্কেল সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, তাদের আমদানিকৃত কাঁচামাল বহনকারী জাহাজ থেকে সময়মতো পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৭ হাজার মার্কিন ডলার বিলম্বজনিত মাশুল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামালের অভাবে কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদিত সিমেন্টও যথাসময়ে বাজারে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

শেখ সিমেন্ট কারখানার এজিএম আজাদুল হক বলেন, লাইটার জাহাজের জ্বালানি সংকটের কারণে বন্দরে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ক্লিংকার তাদের কারখানায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে তাদের সিমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ইউনিটগুলোতে কাঁচামালের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানার শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

মোংলায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার প্রকৌশলী প্রবীর হীরা বলেন, তারা ডিলার ও এজেন্টদের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করছেন। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এবং সরবরাহ সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিতরণ করা হচ্ছে।