মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ইসলামী ছাত্রশিবির পাবনা সদর থানা শাখার উদ্যোগে বাবুল চড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান এবং পাবনা পৌর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একরামুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ছাত্রনেতা তুষার আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন,

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা আমাদের জাতির বিবেক। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু সেই স্বাধীনতার চেতনা আজ নানা সংকটে আক্রান্ত। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করতে হলে আমাদের ন্যায়, ইনসাফ ও আদর্শিক রাজনীতির পথে ফিরে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যখনই এদেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে, তখনই ছাত্রসমাজ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। আজকের তরুণ প্রজন্মকে সেই আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে হবে এবং দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শহীদদের স্মরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের আদর্শ বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে এবং সত্য ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

উপাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের স্মরণে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন বর্তমান সময়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আইডল অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।