ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদলের সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

গতকাল সোমবার ঢাবি শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, গত রাতে জগন্নাথ হলে সংঘটিত এই ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু একজন শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর নির্যাতনই নয়; বরং এটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের আধিপত্য, গেস্টরুম সংস্কৃতি, ভয়ভীতিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। এই চরম অমানবিক ও কাপুরুষোচিত হামলার পর ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দলীয় নাম প্রকাশ না করার জন্য ভুক্তভোগীকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ শিক্ষাঙ্গনের ন্যূনতম নৈতিকতার পরিপন্থী ও চরম উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের নাম প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন: জগন্নাথ হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস (সেশন: ২০২০-২১), জগন্নাথ হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন (মার্কেটিং, সেশন: ২০২১-২২), ঢাবি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী সাগর (ম্যানেজমেন্ট, সেশন: ২০২১-২২)।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, অস্ত্রের রাজনীতি, হলকেন্দ্রিক দখলদারিত্ব ও ভিন্নমত দমনের যে কালো অধ্যায় অতীতে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছে, তার কারিগর ও প্রতিষ্ঠাতা ছিল ছাত্রদল। দীর্ঘদিন পর পুনরায় সেই পুরনো দমনমূলক ধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষণ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। জগন্নাথ হলের এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

তারা আরও বলেন, অতীতেও জগন্নাথ হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রুমে ঢুকে মারধর ও আইলেটের ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে ম্যানার শেখানোর নামে নবীন শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমকেন্দ্রিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বিচার না হওয়া অপরাধীদের জন্য এক ধরনের দায়মুক্তির বার্তা তৈরি করেছে। ছাত্রদলের জুলুম-নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল ও বিএনপির হাই-কমান্ডের চাপে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।