কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া টাকা গণনা শেষ হয়েছে। এবার ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া দানবাক্সে মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। গণনা শেষে গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৮টায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে সকালে মসজিদের ১৪টি দানবাক্স খোলা হয়। এতে পাওয়া যায় রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা। পরে মসজিদ কমপ্লেক্সের দোতলায় নিয়ে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। এসব বস্তাভর্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫০০ মানুষ।
এ সময় উপস্থিতি ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
এর আগে, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১১ টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গেছে। আরও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে করা ব্যয় হয়।
মসজিদটিতে এবার আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির এর কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।