চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভবন নির্মাণের অনুমতি দিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভূমি ব্যবহারের অনুমতি ও নকশা অনুমোদনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও মোটা অঙ্কের ঘুষ না দেওয়ায় দীর্ঘ এক বছর ধরে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সিডিএ কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা হাসান মুরাদসহ ৯ জন অংশীদার তাদের প্রায় সাড়ে ১৩শ’ বর্গমিটার জায়গায় একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। নিয়মানুযায়ী তারা সিডিএ থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নকশা অনুমোদনের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও চূড়ান্ত অনুমতিপত্র ইস্যু না করে মাসের পর মাস ঘোরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সিডিএ-র সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ কামাল হোসেন, সহকারী অথরাইজ অফিসার মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, তৎকালীন অথরাইজ অফিসার-১ মোহাম্মদ হাসান, ডিএ আলমগীর তালুকদার এবং সেকশন অফিসার সুবীর বড়ুয়া এই ফাইলটি আটকে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তারা ফাইল ছাড়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত এক বছরের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই ফাইলটি হিমাগারে পাঠিয়ে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে অভিযান চালায় দুদক জেলা কার্যালয়-১-এর একটি টিম। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আলোচিত ফাইলের নথিপত্র এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়।

অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম সাংবাদিকদের জানান, “আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিডিএ-তে অভিযান পরিচালনা করেছি। প্রয়োজনীয় অনেক নথিপত্র আমরা জব্দ করেছি। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও ফাইল আটকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে, তাদের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক সংশ্লিষ্টতা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, জব্দকৃত নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিডিএ-র মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জনভোগান্তি ও দুর্নীতির এমন খবরে নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সিডিএ-কে দুর্নীতিমুক্ত করা হোক।