বাহুবল (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পেতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ এসিল্যান্ড শূন্য থাকায় নামজারি, খাস জমি ব্যবস্থাপনা, সরকারি জমি রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের মতো কর্মকা- আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে অন্যত্র যোগাযোগ করতে হচ্ছে, আবার অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
অন্যদিকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় যুব সমাজের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প ও যুব ঋণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাধারণত বেকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ ও উদ্যোক্তা তৈরির নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু কর্মকর্তা না থাকায় এসব কার্যক্রমে গতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় নারী উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নারী প্রশিক্ষণ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ভিজিডি ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও সচেতনতা কার্যক্রমও কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকা-ের সুযোগ বাড়ছে।