বাউফল উপজেলা শ্রমিক লীগের (একাংশের) সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা হাওলাদার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন । মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাউফলের নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ধানের শীষের নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ওই জনসমাবেশে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের বিএনপির জাতীয় সংসদ সদস্য মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার ছাড়াও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শাহজাদা হাওলাদার গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গত সোমবার রাতেও তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তার নিজ বাসভবনে অভিযান চালায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে একজন পলাতক আসামির প্রকাশ্যে জনসভায় উপস্থিতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন দিয়ে আন্দোলন করেছি। অথচ সেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। এটি জুলাই আন্দোলনের শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিবো।

শাহজাদা হাওলাদারের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝেও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, যে রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে দলে ভেড়ানো হয়েছে, তা ভবিষ্যতে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং নির্বাচনীভাবে দলের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে।

এদিকে শাহজাদা হাওলাদারের পাশাপাশি নওমালা ইউনিয়নের একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ কর্মীর বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় একজন ভোটার বলেন, বিতর্কিত ও অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।