অবশেষে খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার গল্লামারী ময়ূর নদীর উপর দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে নির্মাণ শুরু হলেও দুই বছরেও কাজ শেষ না হওয়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। এ নিয়ে খুলনাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। থমকে থাকা কাজ দ্রুত শুরু করার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ খুলনা অচলের কর্মসূচির হুমকি দেওয়া হয়।
এসব আন্দোলন কর্মসূচির এক পর্যায় অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। বিদেশ থেকে সেতুর স্টিল স্ট্রাকচারের দুই তৃতীয়াংশ মালামাল ইতোমধ্যে চলে এসেছে। মজুত রাখা হয়েছে সেতুর পশ্চিম পাশে ইয়ার্ডে। আমদানিকৃত ২৮৭ খন্ডাংশ উন্নত মানের স্টিল এবং ২৮ দশমিক ৬৮ টন নাট বোল্ট ব্যবহৃত হবে সেতুর দৃষ্টিনন্দন স্টিল স্ট্রাকচার তৈরিতে। সেতুর পশ্চিম পাশে সড়কের উপর ব্রিজের স্টিল স্ট্রাকচার ইরেকশন বা সংযোজনের প্রস্তুতি জোরেশোরে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দৃশ্যমান হবে সেতুর স্টিল স্ট্রাকচার। ফেব্রুয়ারিতে যানবাহন চলাচলের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘মূল সড়ক থেকে প্রায় সাড়ে চার ফুট উঁচু হবে সেতুর স্টিল স্ট্রাকচার। স্টিলের খন্ডাংশগুলো একত্রীকরণ বা এসেম্বলির জন্য সেতুর পশ্চিম পাশে সড়কের উপর সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ৮০ মিটার লম্বা বালির বেড নির্মাণের কাজ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। নদীর ভিতর সংযোজনকৃত স্টিল স্ট্রাকচার স্থাপনের জন্য স্টেজিংয়ের কাজ শুরু হবে খুব দ্রুতই। সাড়ে ৪ ফুট বালির বেডের উপর রেলের স্লিপারের উপর স্টিলের খন্ডাংশগুলো একত্রীকরণ বা সংযোজন করা হবে। এরপর সংযোজনকৃত ব্রিজের সম্পূর্ণ স্টিল স্ট্রাকচারটি হাইড্রোলিক জ্যাক বা শক্তিশালী কপি কলের মাধ্যমে নদীর উপর নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করা হবে। সরেজমিনে সেতুর পশ্চিমে গিয়ে দেখা যায়, মূল সেতুর স্টিল স্ট্রাকচারগুলো স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রিজের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর বালুর বেড নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে।