কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার মৎস্য প্রকল্পের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পল্লীর একটি রাজনৈতিক দলের কয়েক জন নেতাকর্মী দিনের আলোতে একাধিকবার লুটপাট ও ক্ষতি সাধন করেছে বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী তার উপর জুলুম বন্ধ করতে স্থানীয় থানা ও নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। বরং ওই সন্ত্রাসীরা এখনো তার উপর হুমকি ধামকী অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন। কোটচাঁদপুর উপজেলার দয়রামপুর গ্রামের বিআরটি-এর অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মঈদুল ইসলাম গ্রামের পাশেই চিৎলার বিলে নিজের প্রায় ৭০ বিঘা জমি তারের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ ঘিরে বড় ধরণের দুইটি পুকুর কাটেন। ওই পুকুর পাড় চওড়া করে বেঁধে পরিকল্পনা অনুযায়ী আম জামসহ বিভিন্ন ফলের গাছের পাশাপাশি সুপারি, নারকেল, পেঁপে, ড্রাগনের বাগান তৈরী করেন । সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রকল্পটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনেন তিনি। বিআরটি-এর অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মঈদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত ওই মৎস্য প্রকল্পের ঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সাজানো প্রকল্পের সমস্ত ফলদ বাগান কেঁটে দেয়। সেই সাথে পুকুরের মাছ, সিসি ক্যামেরা, বিদ্যুতের তারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ওই একই দিনে গ্রামের বাজারে এলাকার মানুষের জন্য নিজের তৈরী লাইব্রেরি ভাংচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শাড়ী কাপড় লুট করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন ওই সন্ত্রাসীরা শুধু ৫ আগষ্টে তিসাধন করে খ্যান্ত হয়নি। গত ১৪ মাসে দফায় দফায় আরো ৪বার মৎস্য প্রকল্পে হামলা চালিয়ে ক্ষতি সাধনসহ একটি পুকুরের দুইটি পাড় কেটে দিয়েছে। এতে ভুক্তভোগী মঈদুল ইসলাম এ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকার তিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন ২৫ বিঘার পুকুরটির পাড় কেটে দেয়ায় এখন সে পুকুরে কোন মাছ চাষ করতে পারছেন না। পুকুরের পাড় মেরামত করতে গেলে ওই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরণের হুমকী দিচ্ছে। এ ধরনের অন্যায় অত্যাচারের হাত থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে ভুক্তভোগী মঈদুল ইসলাম জানান। এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীন ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী মঈদুল ইসলামের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি এলাকার কিছু লোকজন মঈদুল ইসলামের মৎস্য প্রকল্পের ক্ষতি সাধন করেছে। তবে জানতে পেরেছি মঈদুল ইসলামের পুকুরের সামান্য কিছু জমি ও বিলের পানি নিষ্কাশন নিয়ে এলাকায় বিবাদীদের সাথে ঝামেলা রয়েছে। এই রেষারেষি নিয়ে এমন ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপরে নিকট এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিবেন বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা। অপর দিকে থানায় জিডির বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী এএসআই কবির হোসেন জানান, ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।