বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, কুরআনের শিক্ষাই পারে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কুরআনের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে উঠলে সমাজ হবে শান্তিপূর্ণ ও আলোকিত। এমন আয়োজন সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন খুলনা মহানগরীর উদ্যোগে মঙ্গলবার হাফেজ মানসুর আহমেদ (রহ.) হাফিজিয়া মাদরাসায় ও বায়তুল মিরাজ জামে মসজিদে প্রাঙ্গণে ৩০ তম জাতীয় হেফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের মহানগরী সভাপতি হাফেজ মাওলানা মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাফেজ সালাউদ্দীনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইমদাদুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা বদিউজ্জামান, হাফেজ আনসার আলী, হাফেজ মাওলানা মুফতি মাইনুল ইসলাম, হাফেজ ক্বারী মুস্তাকিম বিল্লাহ ও হাফেজ রহমান প্রমুখ।

খুলনা-৩ আসনের এই এমপি প্রার্থী আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, তাদের হৃদয়ে দ্বীনি চেতনা ও ঈমানী প্রেরণা সৃষ্টি করা। আমরা চাই, প্রতিটি গ্রামে অন্তত একজন হাফেজে কুরআন তৈরি হোক। আমাদের সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়–ক, যাতে তরুণ প্রজন্ম মাদক, ভোগবাদ ও অনৈতিকতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পায়। তিনি বলেন, যারা আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করছে, তারা আসলে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতি সংরক্ষণের অংশীদার, যা তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন-‘ইন্না নাহনু নায্জালনাযিকরা ওয়াইন্না লাহু লাহাফিজু’।

তিনি আরও বলেন, কুরআনের হাফেজ হওয়া শুধু দুনিয়ার সম্মান নয়; এটি আখিরাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনের পথ।

খুলনা জেলা পরিষদের নিখোঁজ নথি একবছর পর উদ্ধার

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি আগে খুলনা জেলা পরিষদ থেকে নিখোঁজ হওয়া ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর সিনিয়র সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাসলিমা আক্তার বলেছেন, বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুদককে জানানো হয়েছে। জেলা পরিষদের সূত্র জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কিত নথিগুলী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুসন্ধান করেছিল। ব্যাপক তল্লাশির পরেও সেই নথিগুলী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্বৃত্তরা জেলা পরিষদ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় তারা মূল্যবান রেকর্ডপত্র লুটপাট করে পুড়িয়ে দেয়।

নিজের কক্ষ থেকে নথিগুলো উদ্ধার হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান দাবি করেছেন, নথিগুলী অফিসের কর্মচারিরা রেখেছিল। কিন্তু তিনি আগে খুঁজে পাননি- এখন পাওয়া গেছে। তবে, এটি “গুরুতর কিছু নয়” বলেও দাবি তার।

সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান সাম্প্রতিক বছরগুলীতে একাধিক বদলি আদেশ উপেক্ষা করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও খুলনায় দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।