নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রেডলাইন।

ইসি কোনো ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকধারী কাউকে নির্বাচনের সুযোগ দিলে আমরা রাজপথে নামবো, আইনি লড়াই করবো। কোনোভাবেই ইসিকে আগের ৩টি নির্বাচনের মতো দায়সারা ও সমঝোতার নির্বাচন করতে দেবো না।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী আপিল শুনানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, অনেকে দ্বৈত নাগরিক হয়েও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গুন্ডামি করছেন।

এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশের নির্বাচনে অংশ নিতে দেবো না।

বিএনপির দিকেও আঙ্গুল তুলেন এনসিপির এ নেতা। বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারক বলে প্রচার করলেও তারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিএনপির অনেকে ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নেয়ার চেষ্টা করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তাদের বৈধতা দিয়েছে। দ্বৈত্ব নাগরিকত্ব বিষয়ে ইসি সংবিধানের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে, এটি খুবই বিপজ্জনক প্রবৃত্তি। কমিশন আইন অনুসরণ করবেন, ব্যাখ্যা দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।

জুলাইযোদ্ধা হাসনাতের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের উদ্বেগ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা মাঈনুদ্দিন নামে আরেক যুবককে দুষ্কৃতিকারীরা লাঠিসোটা ও চাকু দিয়ে অতর্কিত হামলা করে মারাত্মকভাবে আহত করে। তিনি এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা জাতির জন্য অশনি সংকেত। এটি শুধু একজন জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা নয়, বরং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতভিন্নতার অজুহাতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে দেশে নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এডভোকেট জুবায়ের বলেন, আহত হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মাঈনউদ্দীনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বর্বর হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।