মোঃ সাইফুল্লাহ, শ্রীপুর (মাগুরা) : মাগুরায় সরিষার ফুল থেকে মধু চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন আবু বক্কার সিদ্দিক। পৌষের শুরুতে মাঠে মাঠে বাতাসে দোল খায় সরিষা ফুল। সরিষা ফুল থেকেই তৈরি হয় মধু। মাগুরা সদরের ছোটফালিয়া গ্রামের মাঠে বক্স পেতে মধু সংগ্রহ করছেন মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক। মধু চাষ করে তার প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন এ এস মৌ খামার।
মৌ চাষী আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, পৌষের শুরুতে মাগুরার মাঠে মাঠে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন তিনি। সরিষা ফুলের পার্শ্ববর্তী মাঠে বক্স পেতে মধু সংগ্রহ করেন তিনি। এবার সদরের ছোটফালিয়া গ্রামের একটি মাঠে বড় সাইজের (সুপার বক্স) ৪৫টি বক্স পেতে মধু সংগ্রহ করছেন। সংগ্রহের কাজে ৪ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। মৌমাছিদের পরিচর্যা, খাবার দেয়ার কাজ করেন শ্রমিকরা। সপ্তাহের প্রতি বক্স থেকে ৪-৫ মণ মধু সংগ্রহ
আল আবু বক্কার আরো জানান,সংগ্রহীত মধু দেশের বিভিন্ন স্থানের বেপারীরা মাঠে এসে আমাদের নিকট থেকে সংগ্রহ করেন। প্রতি কেজি মধু ৪শ থেকে ৫শ টাকা বিক্রি করি। তাছাড়া এই মধু শরিয়তপুর, মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর, ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করি। এ বছর আমি ১ লক্ষাধিক টাকার মধু বিক্রি করেছি। শুধু সরিষা ফুলের মধু নয়, আমি ধনে ফুলের, কালো জিরা ও লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে। গ্রীষ্মকালিন সময় আমি বিভিন্ন লিচু বাগান থেকে মধু সংগ্রহ করি। এক এক ফুলের মধু এক এক রকম রং হয়ে থাকে। কোন মধু গাড়ো, আবার কোন মধু পাতলা হয়ে থাকে। তবে সরিষা ফুলের মধুটা খুব পরিষ্কার হয়ে থাকে। কালো জিরার মধু অনেক সময় ওষুধে ব্যবহার করা হয়। আমি মধুতে কোন চিনি মিশায় না তাই আমার মধুর চাহিদা ও গুণাগুণ অনেক ভালো।
অগ্রহায়ণ মাস থেকে আমাদের মধু সংগ্রহের কাজ চলে। এ ছাড়া বছরের বাকি সময় আমি সুন্দরবন অঞ্চলে মধু সংগ্রহে করে থাকি।