তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার তিতাস উপজেলার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে চার আনসার সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতার দিকে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দাউদকান্দি ১৩২/১৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জামালপুরের শুক্কুর আলী (৪৫), শরীয়তপুরের মো. রুবেল, বগুড়ার মেহেরুল ইসলাম (৪১) ও সিলেটের ইমরান হোসেন (২৭)। তাদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্কুর আলীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরফরাজ হোসেন খান বলেন, শুক্কুর আলী ও রুবেলের বাঁ ঊরু, বুক, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুক্কুর আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার সকালে মেহেরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটির ফটকের সামনে আসেন। তারা কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর হাবিব নামের এক ঠিকাদারকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার কমান্ডার মেহেরুল ইসলাম তাদের মুঠোফোনে হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে যান। একপর্যায়ে চার আনসার সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
হামলার এক পর্যায়ে গ্রিড উপকেন্দ্রের প্রকৌশলী আসিফ আদনান ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আসিফ হোসাইনকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। ওই সময় হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আসিফ আদনান জানান, তিনি সম্প্রতি তিতাস থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-৯ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে পুলিশ তাকে কোনো লিখিত প্রমাণ দেননি বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিতাস থানায় গিয়ে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। ওসি মুহাম্মদ আসিফ হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।