কৃষি জমি অকৃষি কাজে ব্যবহার কমানো, দেশীয় ধানের জাত সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মঙ্গলবার গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, এগ্রোডাইভারসিটি নষ্ট করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষি জমি রক্ষা, দেশীয় ধানের জাত সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম ধানের উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত হাইব্রিড ধানের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং অতিমাত্রায় বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো. ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুল। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে নয়া কৃষি আন্দোলনের জাহাঙ্গীর আলম জনি ও উভিনিগের কনসালটেন্ট ড. আব্দুস সোবহানসহ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেশীয় ধানের জাত বিদেশে চলে যাওয়ার পরিবর্তে নিজস্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। বোরো ধান চাষে সেচের কারণে বরেন্দ্র এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যেবক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার এবং ছোট এনজিওগুলোর সঙ্গে ব্রির সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সভা শেষে ফরিদা আখতার ব্রির জিন ব্যাংক, ফার্ম মেশিনারি শেড ও ব্রি রাইস মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন এবং ধান গবেষণায় ব্রির সাফল্য ও অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।