মাহফুজ আলম, কাপ্তাই থেকে : রাত হলেই পার্বত্য কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সক্রিয় হয়ে ওঠে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। দক্ষিণ বন বিভাগ ও কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের আওতাধীন কারিগর পাড়া, কাপ্তাই খালের মুখ বিট, বাঙ্গালহালিয়া, চাকুয়া, আরাছড়ি এবং আশপাশের রিজার্ভ ফরেস্টগুলো থেকে নির্বিচারে মূল্যবান কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

সন্ধ্যার পর জিপ, চাঁদের গাড়ি এবং মিনি ট্রাকের মাধ্যমে এসব কাঠ পাচার করা হয়। চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সড়ক ছাড়াও চাকুয়া, রাইখালী, কারিগর পাড়া, ডংনালা, খন্তাকাটা ও মতিপাড়ার পাহাড়ি পথগুলো হয়ে এসব কাঠ পাচার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। কাঠ পাচারের এ কর্মকা-ে বন সম্পদ ধ্বংস, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক বন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, একসময় কাপ্তাইয়ের বনাঞ্চলে ছিল ঘন অরণ্য। সেখানে দেখা মিলত নানা ধরনের পাখি ও বন্যপ্রাণীর। কিন্তু অতিরিক্ত বন উজারের কার্যক্রম চলতে থাকায়, বন বিপন্ন হওয়ায়, জীববৈচিত্র্যের অভয়ারণ্য ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। খাদ্যের অভাবে বন্যহাতি ও অন্যান্য জীবজন্তু লোকালয়ে চলে আসছে।

পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, যৌথ বাহিনীর প্রচেষ্টায় একসময় কাঠ পাচার রোধ করা অভিযান চলতে থাকলেও হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সম্প্রতি সিন্ডিকেটটি আবারও সক্রিয় হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ নেওয়া ও মন্তব্য জানতে চাইলেন তারা সাক্ষাতের বিষয়টি অসম্মতি জানান।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দ্রুত কাঠ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পুনরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব সিন্ডিকেট বন্ধ করা না গেলে বন উজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কাজেই বন থেকে কাঠ পাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দায়িত্ব কর্তব্য পালনে সক্রিয় হওয়া একান্ত প্রয়োজন।