দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী- ডেমরা-কদমতলীর একাংশ) আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, এবার নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে জাতির ভবিষ্যৎ। দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান দলকে ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করে জামায়াতে ইসলামীর পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের প্রতি ভোট দিয়ে সমর্থন জানাতে দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় শহীদ ফারুক সড়কে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ পূর্বক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বারবার পথ হারিয়েছে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া যায়নি, যাবে না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতিবাজদের বয়কট করে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে নির্বাচিত করার বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামীতে কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত ৫৪ বছর যারা যখন ক্ষমতায় বসেছে তারা জনগণকে শোষণ করেছে, শাসন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শাসক নয় সেবক হবে। পরিবর্তনের জন্য একবার জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত করতে তিনি ঢাকা-৫ আসনের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক ঢাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পথসভা শেষে, মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সমর্থন কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শাহরিয়ার, নেজামে ইসলামী পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমন্বয়ক মুফতি আব্দুল্লাহ বিন কাসেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম, খেলাফত মজলিসের আব্দুর রহমান, জুলাই যোদ্ধা যথাক্রমে নূর আলম আজাদ, রবিউল করিম, হোসাইন আহমদ, জামাল উদ্দিন, আবু বক্কর তুহিন, আইনাল হক, মিজানুর রহমানসহ ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিকে শহীদ পরিবারদের নিয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। ধানমন্ডিতে এক অভিজাত হোটেলে দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার। মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১০ আসন পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং নিউমার্কেট থানা আমীর ও আসন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও আসন কমিটির সহকারী পরিচালক শেখ শরীফ উদ্দীন আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধাগন, ওলামা প্রতিনিধি, নারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি, ঢাকা ১০ আসনের বিভিন্ন থানার আমীর, নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি, শ্রমিক কল্যাণ ও ছাত্র শিবির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের আকাক্সক্ষার ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণকে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজদের ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঢাকা-১০ আসনের জনসাধারণকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহনের আহ্বান জানান।

গতকাল সকাল ৭.৩০ টায় শহীদ জুনায়েদ,শহীদ আনাস সহ জুরাইন কবরস্থানে দাফনকৃত জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের কবর জিয়ারত এর মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০দল সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মানুষ বিশেষত পুরান ঢাকার মানুষ অধিকার বঞ্চিত। আমরা বিজয়ী হলে পুরান ঢাকার যানজট সমস্য,গ্যাস সমস্য সহ সকল মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বিনিময়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা জুলাইয়ের স্পিরিট ধারন করেই সামনে এগিয়ে যাবো। তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদী সহ জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জন্য দোয়া করেন।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জুনায়েদ এর পিতা জনাব শেখ জামাল হাসান, শহীদ আনাসের পিতা জনাব শাহরিয়ার খান পলাশ, ঢাকা-০৬ আসন কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসান সহ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও অসংখ্য স্থানীয় জনতা।