ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ, পূবাইল ও বাড়িয়া) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বাধা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে লিখিত আবেদন প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা।

জামায়াতে ইসলামীর কালিগঞ্জ উপজেলা সাবেক আমীর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, গাজীপুর-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় ধারাবাহিকভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই তা জমা দেওয়া হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইল থানার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্দান স্কুল সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গেলে বিএনপির যুগ্ম সেক্রেটারি জাকির সরকার, যুবদল নেতা আনোয়ার মোড়ল ও আরমান মোল্লা প্রচারণায় বাধা দেন এবং পুনরায় গেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।

একই দিন বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বিন্দান মাদরাসা মার্কেট এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার টাঙানোর সময় বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ লাল মিয়া, মোঃ ইসলাম উদ্দিন, জামাল ও জুয়েলের নেতৃত্বে থাকা কর্মীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ১০-১২ জন কর্মী একত্রিত হয়ে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার টাঙালে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অভিযোগ করেন, কালিগঞ্জ, পূবাইল ও বাড়িয়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের প্রচারণা বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি করছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী।

জামায়াতে ইসলামীর পূবাইল থানা নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট শামীম মৃধা বলেন, বিন্দান কেন্দ্রকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রেখে ভোটের ফল প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে, যা নির্বাচনী সন্ত্রাসের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। তিনি জানান, প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা জাকির সরকার। তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি, শুধু তার বাড়ির সামনে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার না লাগানোর অনুরোধ করেছিলেন।

এদিকে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পূবাইল এলাকার বাজার, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে ভোটাররা বলছেন, ভোটের আগে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অশনিসংকেত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মাঠ দখল ও আধিপত্য দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। তারা মনে করেন, প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।