মৌলভীবাজার-১ আসনের জুড়ী উপজেলার শিলুয়া এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে হামলায় আহত ঐ আসনের জামায়াত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমানসহ জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীদের দেখতে ওসমানী হাসপাতালে গিয়েছেন ১১ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তারা। এসময় নেতৃবৃন্দ আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ খবর নেন ও সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত করেন। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
গত মঙ্গলবার রাতে জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকা এবং নাসির উদ্দীন মিঠুর জুড়ীস্থ বাসার সামনে সংঘটিত হামলায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম, জামায়াত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, ছাত্রশিবির নেতা তারেক, আব্দুল্লাহ, এনসিপির যুবশক্তির রুমেলসহ অন্তত ১০ জন মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হলে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের দেখে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও মহানগর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, নারকীয়ভাবে আমাদের প্রার্থীর এজেন্ট ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর-প্রধান নির্বাচনী এজেন্টসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। একজন সন্ত্রাসী তাদের ওপর ছুরিকাঘাত করার জন্য চেষ্টা করেছিল তখন এনসিপির যুবশক্তি নেতা রুমেল আহমদ আটকাতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনিও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গাড়িতে যারা ছিলেন, তারা সবাই-ই রক্তাক্ত হয়েছেন। দুঃখজনক ব্যাপার যে, ধানের শীষের প্রার্থীর নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। তিনিই প্রথমে গাড়িতে লাথি মারেন। এরপর হামলা শুরু হয়। এগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড়ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং হুমকি। এধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে সাধারণ মানুষ কিভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখেই একজন প্রার্থী অপর প্রার্থীর এজেন্টের ওপর হামলে পড়েন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর কোন ভূমিকা আমরা দেখতে পাই নি। প্রশাসন মামলা নিতে বিলম্ব করছিলেন, যখন থানাতে গিয়ে সাধারণ জনগণ ও ভোটাররা অবস্থান করে তখন মামলা নেওয়া হয়। কিন্তু, এখনো দাগী কোনো আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা আশা রাখি প্রশাসন এব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য ও সিলেট-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর ও সিলেট-১ আসনের নির্বাচন সহকারী পরিচালক ড. নূরুল ইসলাম বাবুল। এছাড়া এসময় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।