চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহে বিএনপির হামলায় জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এদিকেএ ঘটনার মূল অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে চুয়াডাঙ্গার ডিবি পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে দামুড়হুদার জয়রামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে জীবননগরের বাকা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক। এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সোমবার বিকেলে সদর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে শহরের শহীদ হাসান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ হাসান চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
একই দিন বিকেল ৪ টার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রেলবাজার মুক্তমঞ্চে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
এ সব সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জামায়াত কর্মী ও জুয়েলারী ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ড দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রুখে দিতে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। রাজনৈতিকদলটি প্রতিহিংসায় মেতেছে তা জেলার জন্য সুখকর কিছু হবে না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর বেলাল হুসাইন, জেলা ইউনিটের সদস্য আব্দুর রউফ ও জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদ প্রমুখ। দর্শনায় দর্শনা পৌর আমীর শাহিকুল আলম অপু এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর দামুড়হুদার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান। জেলা সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, দর্শনা থানা আমীর রেজাউল করিম।
এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে শনিবার রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপির হামলায় জামায়াতের নিহত হন বাকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরের ভাই ও জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান। আহত হন উভয়পক্ষের আরও ৬ জন। এ ঘটনায় রবিবার জীবননগর থানায় ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের।