বাংলাদেশের রাজধানীর সন্নিকটে অবস্থিত শিল্প ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত গাজীপুর। শিল্পনগরী ও অর্থনৈতিক হাব হিসেবে খ্যাত এই জেলা থেকেই দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশ সচল থাকে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গাজীপুরবাসীর ভূমিকা বরাবরই উল্লেখযোগ্য। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান মন্ত্রিসভায় কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় জেলাজুড়ে হতাশা ও ক্ষোভে সৃষ্টি হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা কেবল শিল্পকারখানার জন্যই নয়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বহু স্থাপনার জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, বাংলাদেশ আনসার একাডেমী, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গ্রাউন্ড অবকাঠামোসহ হাজারো শিল্পকারখানা। এ ছাড়া সমরাস্ত্র কারখানা ও টাকশালের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও এই জেলার ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অতীতের প্রায় সব মন্ত্রিসভাতেই গাজীপুরের পাঁচটি আসন থেকে একাধিক প্রতিনিধি মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। এমনকি আগের সরকারের সময় গাজীপুর থেকে ৪ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথমবার গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসন থেকে কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো প্রতিনিধি স্থান না পাওয়ায় অনেকেই এটিকে 'গাজীপুরকে অবমূল্যায়ন' হিসেবে দেখছেন। কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুরের একজন বিজয়ী সংসদ সদস্যের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির গুঞ্জন শোনা গেলেও চূড়ান্ত তালিকায় গাজীপুরের কারও নাম না থাকায় হতাশা আরও বেড়েছে।
সচেতন মহলের মতে, শিল্প ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি জেলা হিসেবে গাজীপুরের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল। এতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গাজীপুরের দাবি ও অগ্রাধিকার আরও শক্তভাবে উপস্থাপিত হতো। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময় গাজীপুর থেকে কাউকে না কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং জেলার প্রতি এই ‘শূন্যতা' দূর হবে।
গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা-দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যে জেলার ভূমিকা এত বড়, সেই জেলার কণ্ঠ যেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়।