জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর ও সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে যখন এদেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে রাজপথে নেমেছিল, তখন শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন সেই আন্দোলনের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা। তিনি কোনো পদ-পদবির জন্য লড়াই করেননি, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তার অপরাধ ছিল তিনি একটি ইনসাফ কায়েমের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার অপরাধ ছিল তিনি ভোট ও ভাতের অধিকার চেয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ নতুন করে স্বাধীন হলেও শহিদ হাদির খুনিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই শহীদের রক্ত নিয়ে কোনো আপস হবে না। শরীফ ওসমান হাদিকে যারা কাপুরুষের মতো গুলি করে হত্যা করেছে, সেই ঘাতকদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি গত শুক্রবার রাতে সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের অগ্র সৈনিক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো টালবাহানা না করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন করতে হবে এবং ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের এই বীরের অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যারা ভেবেছিলেন রক্ত দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই বিপ্লব পূর্ণতা পাবে না।

মাওলানা লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও আল ইমরানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন- সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজির উদ্দিন, সেক্রেটারি মো. আল ইমরান, উপজেলা শূরা সদস্য এখলাছুর রহমান, হাটখোলা ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সদস্য সচিব আমিনুল এহসান মানিক ও সাবেক মেম্বার এটিএম সেলিম প্রমুখ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রকিব, কালা মিয়া, নছির উদ্দিন, দুদু মিয়া, হানিফ আলী, আতাউর রহমান, চান্দ আলী, আলা উদ্দিন, দুলা মিয়া, বিলাল, আমিরুল ইসলাম, আনিছ, শুকুর আলী, রাজা মিয়া, ঠান্ডা মিয়া, শফিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, সাজ্জাদুর রহমান, সেবুল মিয়া।