গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে যমুনা ডেনিম গার্মেন্টস অ্যান্ড ওয়াশিং লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কারখানার সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভে অংশ নেয়। শ্রমিকরা আগে থেকেই বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। কর্তৃপক্ষ পূর্বের দাবিগুলো মেনে নিলেও শনিবার (২৪ জানুয়ারি) শ্রমিকরা নতুন কিছু দাবি নিয়ে আবারও কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত হয়।
সকাল ৯ টার দিকে কারখানায় প্রবেশ করা শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে কর্তৃপক্ষ গেটের বাইরে বের করে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানার সামনে সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের সামনে ও আশপাশের বিভিন্ন ফিডার রোডে ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কনস্টেবল, মোহাম্মদ আরিফ হোসেন ইটের আঘাতে আহত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সকাল ১০টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটকে নোটিশ টানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কোনাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মাহমুদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।