মোঃ ফিরোজ আহমেদ, পাইকগাছা (খুলনা) : দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একমাত্র সরকারি পাবলিক লাইব্রেরি ও জাদুঘরটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। একসময় পাঠক ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিস্তব্ধ, জনশূন্য এবং ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠা ও সোনালী অতীত: ১৯৮৫ সালে পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান স.ম. বাবর আলীর উদ্যোগে এই লাইব্রেরি ও জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র ২০০টি বই নিয়ে শুরু হলেও একসময় বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে উন্নীত হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এটি ছিল জ্ঞানচর্চা ও ইতিহাসের অন্যতম কেন্দ্র। নিয়মিতভাবে জাতীয় ও আঞ্চলিক নয়টি পত্রিকা সরবরাহ করা হতো এখানে, যা পাঠকদের কাছে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
দীর্ঘ এক দশকের অচলাবস্থা: দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো নতুন বই যোগ হয়নি। এমনকি বন্ধ হয়ে গেছে পত্রিকা সরবরাহও। বর্তমানে ভবনটি ভগ্নদশায়, পাঠকশূন্য কক্ষগুলোতে জমেছে ধুলোর আস্তরণ যা এর করুণ দশা ফুটিয়ে তুলছে।
মাস্টাররোলে কর্মরত লাইব্রেরিয়ান শেখ রাকিব সিফাত আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমি আছি না থাকার মতো। এখানে কাজ করার কোনো পরিবেশ নেই।” তাঁর কথায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান দৈন্যদশা পরিষ্কার ভাবে উঠে আসে।
দায়িত্বে অবহেলা: ১৯৯৯ সালে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পৌরসভা অলিখিত ভাবে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নিলেও, এটিকে সচল রাখতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য এখন হুমকির মুখে।
পুনরুজ্জীবনের আশ্বাস: এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহেরা নাজনীন লাইব্রেরি ও জাদুঘরটি পুনর্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন জানান, “লাইব্রেরি ও জাদুঘরটি পুনর্জীবিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অঞ্চলটির শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।