বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত
রাজশাহীর ছয়টি আসনে ৩৮
প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল
রাজশাহী ব্যুরো: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩৮ জন প্রার্থী। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৫৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন। এদিকে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আর আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে ৬ জন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ৯ জন, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ৭ জন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ৪ জন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে ৮ জন এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এর মধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শরীফ উদ্দীন এবং জামায়াতে ইসলামীর থেকে মুজিবুর রহমান। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামী থেকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এবি পার্টি থেকে সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মুহাম্মদ ফজলুল করিম, এলডিপি থেকে ওয়াহেদুজ্জামান, বাংলাদেশ লেবার পাটি থেকে মেজবাউল ইসলাম, নাগরিক ঐক্য থেকে মোহাম্মদ সামছুল আলম, স্বতন্ত্র থেকে শাহাবুদ্দিন এবং সালেহ আহমেদ। রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি থেকে এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, জামায়াতে ইসলামী থেকে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টি থেকে আফজাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ফজলুর রহমান, আমজনতার দল থেকে সাইদ পারভেজ, স্বতন্ত্র থেকে শাহাবুদ্দিন ও হাবিবা বেগম। রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপি থেকে ডিএমডি জিয়াউর রহমান, জামায়াতে ইসলামী থেকে আব্দুল বারী সরকার। রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী থেকে পুঠিয়া উপজেলার আমির মাওলানা মনজুর রহমান এবং রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপি থেকে আবু সাইদ চাঁদ ও জামায়াতে ইসলামী থেকে নাজমুল হক মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময় সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিলো গত সোমবার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গাজীপুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবেই মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়।
গাজীপুর-১ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহ আলম বকশী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মোঃ মজিবুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর তাসলিমা আক্তার, জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইমারাত হোসেন খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন।
গাজীপুর-২ আসনে সর্বাধিক ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ হোসেন আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সালাহ উদ্দিন সরকার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মাসুদ রেজা, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিত বড়ুয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাপসী তন্ময় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুব আলম ও মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া, খেলাফত মজলিসের খন্দকার রুহুল আমিন, জনতার দলের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর আব্বাস ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আলী নাছের খান এবং গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজর রহমান খান।
গাজীপুর-৩ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এস এম রফিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইজাদুর রহমান চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম শাব্বির আলী, জাতীয় পার্টির মোঃ নাজিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আশিকুল ইসলাম পিয়াল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ আহসানুল হক, ইসলামী ঐক্য জোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর মোঃ কৌশিক আহমেদ।
গাজীপুর-৪ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবুল হাসেম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিউল্লাহ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর মনির হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ কাজিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টির এনামুল কবির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর মোঃ জাকির হোসেন।
গাজীপুর-৫ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ খায়রুল হাসান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলন মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোঃ আল আমিন দেওয়ান, জনতার দলের মোঃ আজম খান, গণফোরামের মোঃ কাজল ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান এবং জাতীয় পার্টির ডাঃ মোঃ সফিউদ্দিন সরকার।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ দিন পর্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাসের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নিকট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।
চট্টগ্রাম-১০ (পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী খুলশী, হালিশহর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নিকট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।
কুমিল্লা
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. অধ্যাপক শফিকুল আলম হেলাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রোববার বিকেলে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসানের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নেত্রকোনা
নেত্রকোনার ৫টি আসনে অন্তত ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জনপ্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় বিষয়কসম্পাদক কায়সার কামাল, স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত) মো. লুৎফর রহমান ডিপ্টি, সিপিবির মনোনীত প্রার্থী দুর্গাপুর উপজেলা সিপিবি সভাপতি মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য (জিএম কাদের) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন খান শান্ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মান্নান (সোহাগ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন।