জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আকাক্সক্ষা পূরণে জামায়াতের সকল স্তরের জনশক্তিকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ শেষ হয়ে যায়নি। জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে। তিনি গত শুক্রবার রাতে সিলেট মহানগর জামায়াতের ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। সমাবেশে সিলেট মহানগরীর সকল সাংগঠনিক থানার সকল ওয়ার্ডের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ইউনিট দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসলেও দেশে এখনো সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জুলাই শহীদ ও আহতদের রক্তের উপর দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের রাষ্ট্রযন্ত্র একটি দলকে ক্ষমতায় নেয়ার ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। দেশব্যাপী একটি দলের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কতিপয় কর্তাব্যক্তিদের কর্মকা- জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। নির্বাচনের সময়ে এগিয়ে আসলেও এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে কতিপয় দলের ভূমিকা ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র। এ ব্যাপারে দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, জেলা আমীর ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য ও সিলেট-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বায়তুল মাল সেক্রেটারি মুফতী আলী হায়দার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শাহীন আহমেদ ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সভাপতি তারেক মনোয়ার প্রমুখ।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, জেলা আমীর ও সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য চ্যালেঞ্জস্বরুপ। এই ভোটে শুধু প্রতীক নয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’কেও বিজয়ী করতে হবে। আর দেশে ভবিষ্যত ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করার কোন বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামী জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণে বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। আসন্ন নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।