খুলনা মহানগরীর নিরালা এলাকায় এবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে একাধিক মামলার আসামি অপর সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য আব্দুল আজিজ (৩৫) আহত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাতেই ঢাকায় নেয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর খুলনা মহানগরীতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হলো। এর মধ্যে ২ জন নিহত হয়েছেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, রোববার রাত ৯ টার দিকে গুলিবিদ্ধ স্থানীয় আজিজ জাহিদুর রহমান ক্রস রোডে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মটর সাইকেলযোগে কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে তাকে লক্ষ্য করে পর পর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি তার গলা ও পেটে বিদ্ধ হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। পরবর্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। গুলিতে নিহত আব্দুল আজিজ মহানগরীর বাগমারা মেইনরোড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমানের পুত্র। তিনি জানান, গুলিতে নিহত আজিজের নামে ৩টি মামলা রয়েছে। সে নগরীর একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রীয় সদস্য। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত ১ মার্চ দিনগত রাত ৯টার দিকে নিরালাস্থ জাহিদুর রহমান সড়কে সর্বশেষ ঘটনায় আজিজ গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত আজিজকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় রাত ৯টার দিকে আজিজ ওই এলাকায় অবস্থানকালে মোটর সাইকেলযোগে দুইজন সন্ত্রাসী সেখানে আসে এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার বুকের বাম পাশে এবং একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সন্ত্রাসীরা মোটর সাইকেল যোগে চলে যায়। সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেও আজিজকে গুলি করা হয়েছিল। ওই সময় চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হন। আহত আজিজ খুলনা শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ- পুলিশ কমিশনার ( দক্ষিন) তাজুল ইসলাম বলেন, কি কারণে ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আজিজের শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলি ও জখমের চিন্হ রয়েছে। আজিজের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা আছে।
উল্লেখ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি গুলিতে শেখ সোহেল (৪৫) নামে ব্যবসায়ী ও ২টি হত্যাসহ ৩ মামলার আসামি নিহত হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মহানগরীর খানজাহান আলী থানাধীন আফিল গেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বিসমিল্লাহ মোটর নামের একটি গ্যারেজে এ ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত পৌনে ১২টার দিকে মহানগরীর মওলার বাড়ি খালপাড় বোর্ড ঘরের সামনে সোহেল ওরফে চেগা সোহেল (২৮) নামে এক মাদক কারবারি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর লবণচরা থানাধীন বান্দাবাজার (হঠাৎ বাজার) রহমানিয়া গলির সামনে আয়নুল (৩২) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়।